পরিকল্পনা কমিশন সদস্যের এলাকা পরিদর্শন
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
ডিএনডি প্রকল্পের আরডিপিপি (পুনঃপ্রকল্প প্রস্তাব) একনেকে পাশের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মো. জাকির হোসেন আকন্দ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। গতকাল তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় নির্মাণাধীন শিমরাইল ও আদমজী পাম্প স্টেশন এবং বিভিন্ন এলাকার কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। আজ রবিবার পাগলা ফতুল্লা এলাকায় পরিদর্শন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি।
ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেয়, যা বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে বর্তমানে এর সম্ভাব্য ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। গতকাল সরজমিন পরিদর্শনকালে মো. জাকির হোসেন আকন্দ জানান, আরডিপিপি (পুনঃপ্রকল্প প্রস্তাব) অনুমোদনের জন্য আগামী একনেকের সভায় উপস্থাপন করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাকারিয়া হুসাইন, সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মাসফিকুল আলম ভূঞা, প্রকল্পের পরিচালক পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল কবির, প্রজেক্ট অফিসার মেজর সৈয়দ মোস্তাকীম হায়দার প্রমুখ।
জানা গেছে, বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে সেনাবাহিনী ত্বরিতগতিতে এ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত পাম্প হাউজে থাকা পাম্পগুলো বিকল্প উপায়ে চালু করেছে। প্রকল্পের অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে। তবে প্রকল্পের আওতাধীন ডিএনডির নিজস্ব জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ২৭টি মসজিদ, ১১টি মাদ্রাসা, ১৩টি সরকারি-বেসরকারি স্কুল ও কলেজ, একটি মন্দির, একটি পুলিশ চেকপোস্ট, চারটি পেট্রোল পাম্প ও ওয়াসার পাম্প হাউস, পাঁচটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা উচ্ছেদ করার ক্ষেত্রে বিশাল জটিলতা রয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ২৮ অবৈধ দখলদার উচ্চ ও নিম্ন আদালতে রিট করায় উচ্ছেদ অভিযানে বাধা পেতে হচ্ছে সেনাবাহিনীকে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাকারিয়া হুসাইন জানান, তারা উচ্ছেদের জন্য শিগগিরই মাঠে নামবেন। প্রকল্পের এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর হাতিরঝিলের আদলে নির্মিত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরার (ডিএনডি) পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ সম্পন্ন করতে আরো ৭০০ কোটি টাকা প্রয়োজন।
