দরিদ্রদের মধ্যেও প্রান্তিক পর্যায়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৬

আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ

দরিদ্রদের মধ্যেও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজন প্রান্তিক পর্যায়ে। এখন করোনার কারণে তাদের অবস্থা আরো শোচনীয়। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে—করোনার কারণে দেশে সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৭০ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে গেছে। অনেকে চাকরি হারিয়ে গ্রামে ফিরে গেছেন। কৃষি ও অন্যান্য কাজের সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অবস্থাও অনিশ্চিত। যারা দিনমজুর ও দৈনিক পারিশ্রমিকের কাজ করেন, তাদের জীবনেও নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতি যদি আরো দীর্ঘ হয়, তবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রান্তিক মানুষের অবস্থা হবে আরো শোচনীয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজন। এমন অবস্থায় আজ সারাবিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশেও পালিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। এ উপলক্ষ্যে থাকছে কয়েকদিনব্যাপী কর্মসূচি। আজ সকাল ১০টায় শুরু হবে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের অনুষ্ঠান। বিকালে ওয়েবিনার আলোচনা সভা। আগামীকাল বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আদিবাসী দিবস উদ্যাপন। ১১ আগস্ট বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম আয়োজিত আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার যেখানে জাতিসংঘের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। ১২ আগস্ট আইইডি ও জনউদ্যোগ আয়োজিত আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান। ১৩ আগস্ট বিএনপিএস ও আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক আয়োজিত আদিবাসী নারীর অধিকার বিষয়ক সেমিনার। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় ও উপজেলায় নানাভাবে আদিবাসী দিবস উদ্যাপন করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। আদিবাসীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো নয় উল্লেখ করে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং বলেন, করোনাকালেও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের ভূমি জবরদখল ও তাদের চিরায়ত ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার হীন উদ্দেশ্যে, সাম্প্রদায়িক হুমকি, নারী ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণসহ নৃশংস সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের ওপর সহিংসতার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২২ বছর অতিবাহিত হলেও চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে পাহাড়ের মানুষ সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মধ্যে দুর্বিষহ জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে। সরকার বার বার সমতলের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়ন করেনি। এই বিষয়ে ন্যূনতম পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো লক্ষণ নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য কমে যাওয়ার ফলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বানানো পণ্যগুলো অবিক্রিত অবস্থায় রয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা বিপাকে পড়েছে। গারো গৃহকর্মী ও বিউটিশিয়ানদের কর্ম সংকুচিত হওয়ায় তাদের গ্রামে ফিরে যেতে হয়েছে। কিন্তু গ্রামে তাদের কর্মসংস্থান নেই। করোনাকালীন দুঃসময়ে তাদের অবশ্যই প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।