নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী শিল্পোদ্যোক্তারা
শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস
বরিশাল বিসিক শিল্পনগরীর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে গতি ফিরে এসেছে। শিল্প মালিক সমিতির নেতাদের হস্তক্ষেপে থমকে থাকা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতি ফিরে পেয়েছে। এর ফলে শিল্পোদ্যোক্তারা নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বাড়তে শুরু করেছে শ্রমজীবী মানুষের পদচারণা।
‘শিল্পনগরীর অনুন্নত এলাকার উন্নয়ন এবং উন্নত এলাকার অবকাঠামো মেরামত ও পুনর্নির্মাণ’ প্রকল্পে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ তো দূরের কথা কাজ শুরুই করতে পারেনি ঠিকাদাররা। শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাঁচাতে বিসিক মালিক সমিতির উদ্যোগে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া ঠিকাদারদের খুঁজে এনে কাজ শুরু করা হয়। এক পর্যায়ে নানান বাধার মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় কাজে গতি পায়। ফলে প্রকল্পের শেষ সময়ে আগের ৫২ দশমিক ২০ কোটি টাকার সঙ্গে নতুন করে বৃদ্ধি পেয়ে ৭১ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে বিসিকের উন্নয়নে ৫২ দশমিক ২০ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাশ হয় এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়। পরবর্তী সময় তত্কালীন প্রকল্প পরিচালক সময় চেয়ে তা ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করলেও কাজ শুরু না হওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়ে এ উন্নয়ন কার্যক্রম। বার বার তাগাদা দিলেও ঠিকাদারদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এক পর্যায়ে শিল্পনগরীর কর্মকর্তারা মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করে ঠিকাদারদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। ঠিকাদাররা নানান জটিলতা দেখালে মালিক সমিতি এ উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করে।
বরিশাল বিসিকের উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও বরিশাল শিল্পনগরী কর্মকর্তা মো. খায়রুল বাশার ইত্তেফাককে জানান, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের টাকা বরাদ্দ এবং অর্থছাড় করায় রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট এবং বাউন্ডারি ওয়াল, মেইন গেটের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থ বছরের কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কাজে যে গতি এসেছে তাতে নতুন করে যে সময়সীমা বৃদ্ধি হয়েছে এর মধ্যেই শতভাগ কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব হবে। বিসিক মালিক সমিতি সূত্র জানায়, এরই মধ্যে আসন্ন ইদুল-আজহায় শিল্প এলাকায় কর্মরত ১০ হাজার শ্রমিকের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বরিশাল বিসিক মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্বিঘ্নে চালু রাখতে এবং হাজার হাজার শ্রমিককে নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে মালিক সমিতি জরুরিভিত্তিতে অবহেলায় পড়ে থাকা বিসিকের এ উন্নয়ন কার্যক্রম দেখ-ভাল করছে। তবে দুষ্কৃতকারীরা প্রায়ই এসব কাজকর্মে বাধা প্রদানসহ নানাভাবে অপপ্র্রচার চালিয়ে আসছে। উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ১৯৬০ সালে ১৩০ দশমিক ৬১ একর জমির ওপর এ শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয়। তখন ব্যয় হয়েছিল ১৩১ দশমিক ৬৫ লাখ টাকা। কিন্তু দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এর কোনো বিকাশ ঘটেনি।
উল্লেখ্য গত বছরের ২৪ জুলাই ইত্তেফাকে ‘বরিশাল বিসিকের উন্নয়নকাজের মেয়াদ শেষ, শুরুই হলো না’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ এবং ২৬ জুলাই ‘বরিশাল বিসিক শিল্পনগরীর উন্নয়ন’ শিরোনামে সম্পাদকীয় প্রকাশিত হলে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি হয়।
