মঠবাড়িয়ায় ঈদের দুই দিন আগে শিশুকন্যাসহ দম্পতি হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২০, ২২:২০

পিরোজপুর অফিস ও মঠবাড়িয়া সংবাদদাতা

ঈদের দুই দিন আগে জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ধানীসাফায় অটোচালক মো. আয়নাল হক (৩২) ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম খুকুমণি (২৬) এবং তাদের একমাত্র কন্যা আশফিয়াকে (৩) নির্মমভাবে হত্যার রহস্য পুলিশ উদ্ঘাটন করেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মঠবাড়িয়া থানায় পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মো. হায়াতুল ইসলাম খান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরেন।

পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, এই খুনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আয়নাল হকের ঘর থেকে স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মালামাল, নগদ অর্থ, সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় মারা যাওয়া তার ভাইয়ের পাঠানো অজ্ঞাত পরিমাণ টাকার লোভ ইত্যাদি। ঘাতকেরা একই গ্রামের বাসিন্দা। ওলি বিশ্বাস, রাকিব ব্যাপারীসহ চার জন এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। অন্য দুই জন পলাতক বলে পুলিশ সুপার তাদের নাম প্রকাশ করেননি। তবে ওলি বিশ্বাস মাঝেমধ্যে অটোরিকশাও চালায়। সম্প্রতি কৃষি ব্যাংক থেকে উত্তোলিত ঋণের ২০ হাজার টাকা ও গরু বিক্রি করা টাকা ঘরে আছে এই তথ্যে হানা দেয় দুর্বৃত্তরা। তারা পেশাদার দুর্বৃত্ত এবং মাঝেমধ্যে ছোটখাটো ডাকাতি ও চুরি করত। ঘটনার দিন সিধ কেটে ঘরে ঢুকলে তাদের চিনে ফেলায় জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা করে এবং শিশুটিকেও শ্বাসরোধে হত্যা করে। ঘটনার পরদিন পুলিশ চার জনকে আটক করে। এর মধ্যে দুই জনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের স্বীকারোক্তিতে ঘটনা বেরিয়ে আসে।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় শিশুকন্যাসহ একই পরিবারের তিন জনকে হত্যার পর লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। গত ৩০ জুলাই রাতে মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানীসাফা গ্রামে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরদিন তিন জনের ঝুলন্ত লাশ ঘর থেকে উদ্ধার করেছে।

পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রথমে আয়নাল হকের আপন বড় ভাই হেলাল  হাওলাদার (৮০), প্রতিবেশী চাচা মালেক হাওলাদার (৫২), চাচাতো ভাই বেল্লাল হাওলাদার (৪৫) ও একই গ্রামের মাহবুব হাওলাদারকে (১৮) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল। আটককৃতরা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে চারটি গোয়েন্দা সংস্থা কাজ শুরু করে এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মূল ঘটনা প্রকাশ পায়।