ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৯০ জন আহত হয়েছে। রাস্তা দখল করে গরুর খামারের ঘর তৈরিকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকালে উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের মনিপুর বন্দরবাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। গত শুক্রবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নাসিরনগরে পৃথক সংঘর্ষে ইউপি সদস্য ও তিন পুলিশসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়।
বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান, বিজয়নগরে সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের জেলা সদর হাসপাতালে এবং স্থানীয়ভাবে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৩০ জনকে আটক করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পত্তন ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) সেলিম মিয়ার সঙ্গে একই ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের ইউনুছ মিয়ার ছেলে লিলু মিয়া ও গনু মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়ার বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি লিলু মনিপুর গ্রামের দুলিবাড়িসংলগ্ন শেখ হাসিনা সড়কের কিছু অংশ দখল করে গরুর খামারের জন্য ঘর তৈরি করতে গেলে ইউপি সদস্য সেলিম বাধা দেন। এ নিয়ে সেলিমের সঙ্গে লিলু ও সোহেলের বাদানুবাদ হয়। সড়কের জায়গা দখল করে ঘর তৈরির বিষয়টি স্থানীয় ভূমি অফিসে জানান সেলিম।
শনিবার দুপুরে বিষয়টি সরেজমিন তদন্তের জন্য বিজয়নগর উপজেলা ভূমি অফিস থেকে সার্ভেয়ার পাঠানো হয়। তদন্ত শেষে সার্ভেয়ার চলে যাওয়ার পর বিকাল ৪টার দিকে লিলু ও সোহেল দলবল নিয়ে মনিপুর বন্দরবাজারে সেলিমের সমর্থকদের কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করে। এরপর উভয় পক্ষের কয়েক শ লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিজয়নগর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আটক করা হয় ৩০ জনকে।
এদিকে গত শুক্রবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নাসিরনগরে পৃথক সংঘর্ষে ইউপি সদস্য ও তিন পুলিশসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছে। জানা যায়, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের আহরন্দে পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুই দল গ্রামবাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ, তিন পুলিশসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। আহতদের জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি সেলিম উদ্দিন জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় তিন জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
একই দিন জেলার নাসিরনগরে বসত ঘরে হাঁস যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দলের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মছলন্দপুর গ্রামের সড়কপাড়ার রজব আলীর হাঁস একই গ্রামের দক্ষিণপাড়ার হোসেন মিয়ার ঘরে গেলে তারা হাঁসটি আটকে রাখে। এ নিয়ে রজব আলীর স্ত্রী আমেনা খাতুনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জের ধরে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। নাসিরনগর থানার ওসি মো. আরিসুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
