দুই দিন আগে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে পালিয়ে যাওয়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আবু বকর সিদ্দিকের সন্ধান গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেলেনি। এ ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কারাগার পরিদর্শন করে প্রথম দিনের তদন্ত কার্যক্রম শেষ করেছেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন—অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন, ডিআইজি প্রিজন মো. তৌহিদুল ইসলাম এবং মানিকগঞ্জ কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন শনিবার বিকালে কারা ফটকের সামনে সাংবাদিকদের জানান, ‘আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চলছে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ আমরা তদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষ করেছি। বাকি কার্যক্রম খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে আপনারা জানতে পারবেন। নতুন করে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্ত কমিটি এ ব্যাপারে সুপারিশ করবে। এ ঘটনায় কারা দায়ী, কয়েদি কীভাবে পালিয়ে গেল এগুলো বের করার চেষ্টা করছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছু বলার সুযোগ নেই।’
কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. এমদাদ হোসেন জানান, কারাগার থেকে কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের করার পর থেকে পুলিশ কয়েদি আবু বকর সিদ্দিককে ধরতে সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আবাদ চন্ডীপুর গ্রামেও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, আবু বকর সিদ্দিক ২০১১ সালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফাঁসির আসামি হিসেবে কাশিমপুর কারাগারে আসেন। ২০১২ সালের ২৭ জুলাই তার সাজা সংশোধন করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে উচ্চ আদালত।
এদিকে কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রধান কারারক্ষীসহ সাত কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং আরো পাঁচ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে শুক্রবার বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত আইজি প্রিজন্স কর্নেল আবরার হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা।
