মেসি-লেভান্ডোভস্কিতে

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২০, ২১:০০

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আগে দলে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। তাতে বার্সেলোনা সাড়া দিতে পেরেছে কি না, তা তর্কসাপেক্ষ, তবে অধিনায়ক মেসির নৈপুণ্যে ন্যাপোলির বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে ওঠার অভ্যেসটা ধরে রেখেছে ঠিকই। দিনের অপর ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখ অবশ্য রবার্ট লেভান্ডোভস্কি জাদুতে চেলসিকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

প্রতিপক্ষের মাঠে ১-১ ড্র করে আসা বার্সেলোনার সামনে শনিবার রাতে গোলশূন্য ড্র করেও কোয়ার্টারে উঠে যাওয়ার সুযোগটা ছিল। তবে দলের নড়বড়ে রক্ষণ নিশ্চিন্ত থাকতে দিচ্ছিল না কাতালানদের। যার প্রথম নমুনার দেখা মিলেছিল একেবারে শুরুতেই। জেরার্ড পিকের ভুলের সুযোগ নিয়ে ড্রাইস মের্টেন্সের করা শটটা গোলপোস্টে আঘাত না হানলে হয়তো দ্বিতীয় লেগে দুঃস্বপ্নই আরো একবার দেখা দিত প্রকট হয়ে।

১০ মিনিটে অনেকটা ধারার বিপরীতে গিয়েই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ইভান রাকিটিচের কর্ণার থেকে ক্লেমেন্ত লংলের গোলটির পরই খেলায় ধাতস্থ হতে শুরু করে বার্সেলোনা। যারই সূত্র ধরে আসে দ্বিতীয় গোলটি। প্রতিপক্ষ বক্সে রক্ষণের জটলায় মেসি ভারসাম্য হারিয়েও বলের দখল ধরে রাখেন। এরপর কালিদু কৌলিবালি আর পিওতর জেলিনস্কির ফাঁক দিয়েই দূরের পোস্টে আর্জেন্টাইন তারকার শট খুঁজে নেয় ন্যাপোলির জাল। মেসি আরো একবার অবশ্য প্রতিপক্ষ জালে বল জড়িয়েছিলেন, তবে আয়ত্বে নেবার সময় হাতে স্পর্শ লাগায় বাতিল হয় গোলটি।

যোগ করা সময়ের শুরুতে কৌলিবালি থেকে বল কেড়ে নিতে গিয়ে বার্সা অধিনায়ক ফাউলের শিকার হওয়ায় দীর্ঘ ভিএআর পরীক্ষার পর পেনাল্টি পায় বার্সা। মেসির ছোট্ট চোটের সুবাদে পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন সুয়ারেজ। তবে বিরতির একটু আগে পেনাল্টি থেকে ন্যাপোলির লরেঞ্জো ইনসিনিয়ে গোল করলে বার্সেলোনাকে নড়বড়ে মনে হতে থাকে। শেষ দুই বছরে রোম, অ্যানফিল্ডে তিন গোলের অগ্রগামীতা হারানোর দুঃস্মৃতি ফিরে ফিরে আসছিল ন্যু ক্যাম্পে। দ্বিতীয়ার্ধে বার্সা দারুণ রক্ষণাত্মক হয়ে একমনে ন্যাপোলির আক্রমণই সামলেছে। তাতে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে টানা ১৩ বারের মতো শেষ আটে পা রাখেন মেসিরা। জয়ের পর স্বস্তি ঝরেছে অন্যতম নায়ক সুয়ারেজের কণ্ঠে, ‘আমরা যা চেয়েছিলাম তা পেয়েছি, দুটো সপ্তাহ এ ম্যাচের জন্যেই প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। জানতাম এটা কঠিন হবে, বিশেষ কিছু মুহূর্তে সেটা মনেও হয়েছে।’

তবে দিনের অন্য ম্যাচে যা হয়েছে তাতে বার্সার স্বস্তি চকিতেই উবে যাওয়ার কথা। আগের লেগের ৩-০ ব্যবধানে জয়ের পর বায়ার্ন মিউনিখ এদিনও চেলসিকে উড়িয়ে দিয়েছে ৪-১ ব্যবধানে। দুটো করে গোল করেছেন, করিয়েছেন রবার্ট লেভান্ডোভস্কি। আগামী ১৪ আগস্ট লিসবনে এই বায়ার্নেরই মুখোমুখি হবে বার্সা। চলতি মৌসুমে রক্ষণে যেমন নড়বড়ে ছিল দল, তাতে বায়ার্নের আক্রমণ দুশ্চিন্তাই বয়ে আনার কথা কিকে সেতিয়েনের শিষ্যদের জন্যে।

তবে বার্সার স্প্যানিশ কোচ মনে করেন, ম্যাচটা কঠিন হবে দুই দলের জন্যেই। বললেন, ‘এটা দুই দলের জন্যেই কঠিন হবে। কারণ তারা ভালো দল, আমরাও।’ তবে বার্সার সবচেয়ে বড় স্বস্তি হয়তো মেসি। বিরতির আগে পাওয়া চোট তেমন বড় নয়, থাকবেন বায়ার্ন ম্যাচেও। আর মেসিই যে বার্সার বড় ভরসা, তা তো বলাই বাহুল্য!

সংখ্যায় সংখ্যায়

৩: মেসি-রোনালদো বাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে ১২-এর বেশি গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন রবার্ট লেভান্ডোভস্কি। এর আগের দুই জন ছিলেন রুড ফন নিস্টেলরয় ও মারিও গোমেজ।

 

৭ :চেলসির গোলে শেষ ষোলোয় বায়ার্নের সবকটি গোলেই প্রত্যক্ষ অবদান ছিল লেভান্ডোভস্কির। ২০০৪-০৫ মৌসুমের পর এই প্রথম একই লড়াইয়ে তিনটির বেশি গোল আর যোগানের কৃতিত্ব দেখল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।

৩৫:ন্যাপোলির বিপক্ষে গোলটি নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৩৫টি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল পেলেন মেসি। ৩৩টি দলের বিপক্ষে গোল নিয়ে যুগ্মভাবে দুইয়ে আছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও রাউল গঞ্জালেস।