পাষণ্ড ব্যাংকার স্বামী গ্রেফতার
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
যৌতুকলোভী ব্যাংকার স্বামীর নির্যাতনে স্কুলশিক্ষিকা স্ত্রী এখন হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর সাহা পাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী রঞ্জন কুমার বৈদ্যকে গ্রেফতার করেছে। অপরদিকে গুরুতর আহত স্ত্রী কাজল রাণী সরকার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে। আটক ব্যাংকার স্বামী অগ্রণী ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখায় কর্মরত ও স্ত্রী সদরের শিমুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।
২০১১ সালে দেবহাটার শশাডাঙ্গা গ্রামের যৌতুকলোভী রঞ্জন কুমার বৈদ্যর সঙ্গে ময়মনসিংহ জেলার পরিতোষ সরকারের কন্যা কাজল রাণী সরকারের বিবাহ হয়। কাজল রানি জানায়, বিবাহের সময় নগদ ৫ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও সাংসারিক জিনিসপত্রসহ আরো ৪ লাখ টাকার জিনিসপত্র গ্রহণ করে রঞ্জন কুমার বৈদ্যর পরিবার। বিবাহের পর একটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে, রুদ্রা (৮)। তিনি বলেন, সন্তান জন্মগ্রহণের পরপরই তার শাশুড়ি সবিতা বৈদ্যর কুপরামর্শে তার কাছে ফের যৌতুক বাবদ ২৫ লাখ টাকা দাবি করে বিভিন্ন সময় তার স্বামী শারীরিক নির্যাতন করতে থাকেন; কিন্তু সন্তানের মুখের দিক তাকিয়ে সংসার করার লক্ষ্যে আমি শত নির্যাতন সহ্য করে চাকরির টাকা ও সহকর্মীদের কাছ থেকে ধার নিয়ে এ পর্যন্ত আমার স্বামীকে যৌতুকের টাকা বাবদ ২০ লাখ টাকা দিয়েছি; কিন্তু তাতেও তিনি ক্ষান্ত হননি। বিভিন্ন সময়ে আরো যৌতুকের টাকা দাবি করে আমাকে নির্যাতন করতে থাকেন।
তিনি বলেন, শুক্রবার দুপুরের দিকে আমি রান্নার কাজ শেষ করে ঘরে এলে স্বামী তার বিশেষ টাকার প্রয়োজন বলে আমার কাছ থেকে যৌতুক বাবদ নগদ আরো ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। আমি উক্ত যৌতুক বাবদ ৫ লাখ টাকা দিতে অস্বীকার করি এবং আমি আর কোনো যৌতুকের টাকা দিতে পারবো না বলে জানালে আমার স্বামী উত্তেজিত হয়ে খাটের ওপর উঠে আমার তলপেটে জোরে লাথি মারে এবং আমি সঙ্গে সঙ্গে ঘরের মেঝেতে পড়ে যাই। এসময় আমার যৌনাঙ্গ দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে থাকে।
আমার তলপেটেও জখম হয়। আমি কান্নাকাটি করতে থাকলে পাশের ঘর থেকে আমার শাশুড়ি এসে আমাকে চড়, কিল, লাথি মারে ও এক পর্যায়ে গামছা নিয়ে আমার স্বামী গলায় পেঁচিয়ে এক প্রান্তে এবং অপর প্রান্তে আমার শাশুড়ি ধরে টানাটানি করে আমার শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় আমার চিত্কারে স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করে। স্থানীয়দের সহায়তায় আমি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। বর্তমানে আমার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। আমি যৌতুকলোভী কসাই স্বামীর বিচার ও শাস্তি চাই।
এব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং নির্যাতনকারী ব্যাংক কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার বৈদ্যকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি তদন্তপূর্বক যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
