দর সুবিধার কারণে বাংলাদেশমুখী যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ক্রেতারা

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৫

জরিপের তথ্য

ইত্তেফাক রিপোর্ট

কারখানার কর্মপরিবেশ (কমপ্লায়েন্স) এবং শ্রম অধিকার সংক্রান্ত ইস্যু সত্ত্বেও প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় দরের ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা পোশাক ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। বিশেষত চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ, করোনা ভাইরাস ইস্যু এবং চীনের উত্পাদন ব্যয় বাড়ার কারণে দেশটি থেকে ধীরে ধীরে মার্কিন ক্রেতারা সরে আসছেন। এসব ক্রেতার উল্লেখযোগ্য অংশের পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকেই বাংলাদেশ রয়েছে। অবশ্য এদিক থেকে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ভিয়েতনাম, ভারত ও কম্বোডিয়া বেশ এগিয়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাকের ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। ইউনাইটেড স্টেটস ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (ইউএসএফআইএ) সহযোগিতায় জরিপটি পরিচালনা করেছে ইউনিভার্সিটি অব ডেলওয়্যারের ফ্যাশন অ্যান্ড অ্যাপারেল স্টাডিজ বিভাগের একদল গবেষক। বিগত কয়েক বছর থেকে এ ধরনের জরিপ পরিচালনা করে আসছেন তারা।

জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে তৈরি হওয়া পণ্য গুরুত্বপূর্ণ মূল্য সুবিধা দেয়। অপেক্ষাকৃত কম মজুরি ছাড়াও কটন সুতা ও কাপড়ের স্থানীয় উত্পাদনের কারণে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ মূল্য সুবিধায় অবদান রাখছে। তবে ম্যান মেড ফাইবারের ক্ষেত্রে মূল্য সুবিধায় বাংলাদেশ এখনো সেভাবে এগুতে পারেনি। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের ম্যান মেড ফাইবার পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের শতভাগই চীন থেকে গার্মেন্টস পণ্য ক্রয় করেন। ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ ভিয়েতনাম থেকে এবং প্রায় ৮৬ শতাংশ বাংলাদেশ থেকে ক্রয় করেন। এছাড়া ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কা থেকে পোশাক ক্রয় করেন যথাক্রমে ৮১ শতাংশ, ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ, ৫৭ দশমিক ১ ও ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সুবিধাভোগী চীন থেকে গার্মেন্টস পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় প্রাথমিক সরবরাহকারী হিসেবে অগ্রগণ্য থাকবে ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ।

জরিপে করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিল কিংবা স্থগিতের বিষয়টিও এসেছে। অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা চীন, বাংলাদেশ ও ভারতে দেওয়া ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত করেছেন। ৭০ শতাংশই চীন থেকে ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত করেছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ৬৫ শতাংশ, ভারতের ক্ষেত্রে তা ৬০ শতাংশ, ভিয়েতনাম থেকে ৪৫ শতাংশ এবং কম্বোডিয়া থেকে ৩০ শতাংশ ক্রেতা ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত করেছেন।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন থেকেই আন্তর্জাতিক মানের পণ্য তৈরি করছে। এছাড়া সাধারণ পোশাকের বাইরে উচ্চ মূল্যের পোশাকও তৈরি করছে। এ কারণে ক্রেতারা বাংলাদেশমুখী হচ্ছেন। বাংলাদেশের সরবরাহ চেইন আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। অবশ্য জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পণ্য ক্রয়ের ব্যয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সসহ অন্যান্য মানদণ্ডে পিছিয়ে রয়েছে।