দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনাকালে চিকিত্সা দেওয়া কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে ঐ হাসপাতাল ও রিজেন্ট ডিসকাভারি ফুডস অ?্যান্ড ট্রাভেলস লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর স্বাক্ষরিত নথিপত্র তলবের পৃথক চিঠি তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে করোনা রোগীদের চিকিত্সাসেবায় নিয়োজিত চিকিত্সক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর হোটেলে থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন তথ্য ও রেকর্ডপত্র ১৬ আগস্টের মধ্যে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে একই অভিযোগে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, হোটেল ৭১ ও হোটেল সুপার স্টারের নথি তলব করে চিঠি দিয়েছিল দুদক। কমিশন এরই মধ্যে হোটেল ৭১ থেকে এ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছে।
দুদক সূত্র জানায়, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের কাছে পাঠানো চিঠিতে হাসপাতালের কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সাসেবায় নিয়োজিত চিকিত্সক, নার্স ও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকা-খাওয়া, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক ব্যয় সংক্রান্ত ‘কোয়ারেন্টাইন এক্সপেন্স’ খাতে হাসপাতালের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থের বরাদ্দপত্র, করোনা রোগীদের চিকিত্সাসেবায় নিয়োজিত চিকিত্সক, নার্স ও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকা-খাওয়ার রেট, হোটেল কর্তৃক দাখিলকৃত কোটেশন, থাকা-খাওয়ার রেট সংক্রান্ত চুক্তিপত্রের কপি, হোটেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত বিল ও টাকার পরিমাণ, ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ঐ চিঠিতে হাসপাতালে এ পর্যন্ত করোনা রোগীদের চিকিত্সাসেবা দানকারী কতজন চিকিত্সক, নার্স ও অন্য ব্যক্তিবর্গ কোন হোটেলে কত দিন থেকেছেন এবং খাওয়া-দাওয়া করেছেন সেসব তথ্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্র আরো জানায়, দুদক থেকে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও অধ্যক্ষ এবং অন্যদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা প্রয়োজন।
অন্যদিকে রিজেন্ট ডিসকাভারি ফুডস অ্যান্ড ট্রাভেলস লিমিটেড/ হোটেলের কাছে পাঠানো চিঠিতে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সাসেবায় নিয়োজিত চিকিত্সক, নার্স ও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকা-খাওয়ার রেট, এ সংক্রান্ত চুক্তিপত্র ও দাখিলকৃত বিলের কপি, গ্রাহকের কাছে ভাড়া দেওয়ার ক্যাটাগরি ও তার বিবরণ এবং থাকা-খাওয়ার রেট ইত্যাদি নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।
