সংসদীয় কমিটি করবে রাজাকারের তালিকা

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৩:৪৩

ইত্তেফাক রিপোর্ট

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় নয়; এবার স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামসের তালিকা তৈরি ও তা প্রকাশ করবে এই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাজাহান খানকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই সাব কমিটি গঠন করা হয়।

স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকও অংশ নেন। এছাড়াও অংশ নেন কমিটির সদস্য রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজু, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, এ বি তাজুল ইসলাম ও মোছলেম উদ্দিন আহম্মদ। আর শাজাহান খানকে আহ্বায়ক করে গঠিত ছয় সদস্যের সাব কমিটিতে রয়েছেন—রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, এ বি তাজুল ইসলাম, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল ও মোছলেম উদ্দিন আহম্মদ।  বৈঠক শেষে শাজাহান খান সাংবাদিকদের জানান, এবার সংসদীয় কমিটি রাজাকারদের তালিকা তৈরি করবে। এ কাজে সাব কমিটি সংসদ সদস্যদের মধ্যে যারা মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আছেন, তাদেরকে কাজে লাগাবে। আর তথ্য নেওয়া হবে যুদ্ধকালীন কমান্ডার এবং উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড থেকে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমান্ডারদের আমরা ব্রিফ করে দেব। তারা তালিকা তৈরি করবেন। কোনো একক কর্তৃপক্ষ তালিকা করবে না। মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এমপিদের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তারা সমন্বয় করবেন।

তালিকা তৈরি করতে কতদিন সময় লাগতে পারে জানতে চাইলে শাজাহান খান বলেন, যেহেতু এটি খুবই একটি বড় কাজ তাই কিছুটা সময় তো লাগবেই। যার কারণে আমরা কোনো সময় বেঁধে দেইনি। তবে আমি যেহেতু দায়িত্ব নিয়েছি, ইনশাল্লাহ যত দ্রুত সম্ভব একটি নির্ভুল তালিকা আমরা তৈরি করতে পারব।

গত বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের ‘বিতর্কিত’ তালিকা প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে তা বাতিল করে সরকার। গত বছর বিজয় দিবসের আগের দিন সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ১০ হাজার ৭৮৯ জন ‘স্বাধীনতাবিরোধীর’ তালিকা প্রকাশ করেন। ঐ তালিকায় গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের নাম আসায় ক্ষোভ আর সমালোচনার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ঐ তালিকা বাতিল করা হয়।

তালিকা নিয়ে সংসদের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক তখন দুঃখ প্রকাশ করে নতুন করে তালিকা তৈরির কথা জানান।

শাজাহান খান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের সরকারি চাকরি দেওয়া হয় না। ভিয়েতনামে তিন প্রজন্ম পর্যন্ত চাকরি দেওয়া হয় না। আমরা তো মন্ত্রী পর্যন্ত বানিয়েছি। এ বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানরা যাতে সরকারি চাকরি না পায়, সে বিষয়ে কিছু একটা করা দরকার। সেজন্য রাজাকারদের তালিকাটা দরকার। এই কাজটা এবার আমরা করব।

এদিকে, সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো বৈঠক সংক্রান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার মোট ২৪টি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করার সুপারিশ করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ লেখার প্রস্তাব

সংসদীয় কমিটি গতকালের বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ শব্দটি লেখার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব করেছে। মন্ত্রণালয়ও এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে বীর শব্দ লিখতে হবে। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করবে।