অক্টোবর থেকে কাউণ্টডাউন শুরু, জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৩:৪৪

সাইদুর রহমান

স্থবির থাকা নির্বাচনি কার্যক্রম আগামী অক্টোবর মাস থেকে শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। করোনা ভাইরাসের কারণে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার বাইরে প্রায় সব নির্বাচনি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কিন্তু কমিশন চলমান পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে। বিশেষ করে আসন্ন পৌরসভার নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি। আগামী অক্টোবর থেকে পৌরসভাগুলো নির্বাচন উপযোগী হবে। জানুয়ারির মধ্যে প্রায় সব পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ইত্তেফাককে বলেন, স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন বন্ধ আছে। শুধু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন আয়োজন করা হয়। তবে অক্টোবর থেকে কমিশনের নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে নির্বাচনযোগ্য পৌরসভা রয়েছে ৩২৮টি। এর মধ্যে নির্বাচনের উপযোগী রয়েছে ২৫৬টি। তবে এই সংখ্যা কমতে বা বাড়তে পারে। কেননা, মামলাসহ আইনি জটিলতার কারণে বেশকিছু পৌরসভার নির্বাচন আটকে আছে। দেশের নির্বাচিত পৌরসভাগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় একযোগে ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নির্বাচন করা যাবে এমন পৌরসভাগুলোর নাম ও লিস্ট তৈরির কাজ করছে ইসির সংশ্লিষ্ট শাখা। তালিকা প্রস্তুতি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া কোনো পৌরসভায় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা আছে কি না, সে বিষয়েও মতামত চাওয়া হবে।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দলীয় প্রতীকে ২৩৪টি পৌরসভার ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।              পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে বাকি পৌরসভার নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করা হয়। আর নির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিয়ে প্রথম সভা করেছিলেন ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত পৌরসভার মেয়াদ হচ্ছে প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। আর ভোট করতে হয় সময় শেষ হওয়ার আগে ৯০ দিনের মধ্যে। ফলে আগামী অক্টোবরে দেশের পৌরসভাগুলোর নির্বাচনের জন্য সময় গণনা শুরু হবে। এক্ষেত্রে ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যেই ভোট করতে হবে।

ইসির তথ্যমতে, ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ছিল ৭২ শতাংশ। আর প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৫২ দশমিক ২৯ শতাংশ, বিএনপি ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ ও জাতীয় পার্টি ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছিলেন ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ ভোট। প্রায় ২৩টি রাজনৈতিক দল বিগত পৌরসভার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল।

কোনো কারণে নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারা না গেলে সেক্ষেত্রে কি হতে পারে—সেই বিষয়ে ইসির সচিব জানান, আমরা জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করতে না পারলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে আমাদের অপারগতার কথা জানিয়ে দেব। সেক্ষেত্রে সরকার বর্তমান মেয়রদের দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারেন অথবা প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারেন। তবে সেটি সরকারের সিদ্ধান্ত।