বিশেষ প্রতিনিধি
অনিয়মের বিরুদ্ধে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এককভাবে অভিযান চালানোর বিপক্ষে তার অবস্থান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে অনিয়ম পেয়ে কয়েকটি হাসপাতাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বন্ধ করে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই অবস্থান পরিষ্কার করলেন। হাসপাতালগুলো আইন ভাঙলে আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি এই অভিযান চলা নিয়েও আপত্তি তুলেছেন।
গতকাল রবিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জাহিদ মালেক বলেন, ‘হাসপাতালে কি অভিযান করে? হাসপাতালে ইনকোয়ারি করে। অভিযান তো করে চিটাগং হিল ট্রাক্টসে, সেখানে সন্ত্রাসী থাকে, সেখানে অভিযান হয়।’ র্যাব-পুলিশের অভিযানের পর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালানো থেকে বিরত থাকতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গত ৪ আগস্ট চিঠি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পেয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, তাহলে কি বেসরকারি হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধে অভিযান বন্ধ হয়ে গেল? ঐ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ‘অভিযান’ শব্দটি নিয়ে আপত্তি তুললেও অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চলবে বলে জানান তিনি।
জাহিদ মালেক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটা সমঝোতা হয়েছে যে এই ধরনের ব্যবস্থা নিতে গেলে তা যৌথভাবে করা হবে। এককভাবে ওনারা কোনো জায়গায় যাবে না, ওনারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে, আমরাও দরকার হলে ওনাদেরকে নিয়ে যাব। কাজেই অভিযান বন্ধ হয়ে গেছে, এ কথাটা ঠিক নয়।
এদিকে রবিবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিএমএ এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান। বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের কাছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নমনীয় কি না—এ প্রশ্নে সচিব বলেন, অভিযান বন্ধ থাকবে না। অনিয়মের ক্ষেত্রে আমরা একটুও নমনীয় হব না। কিন্তু যেন সমন্বয় থাকে, সেজন্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যেখানেই কোনো অনিয়মের তথ্য পাব, আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেখানে যাব। আমরা টাস্কফোর্স করে দিয়েছি। আমরা আমাদের ফোন নম্বর দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি। আমাদের ফোন করলে তাত্ক্ষণিকভাবে টাস্কফোর্স এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তারাও যাবে।’
