সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ দিনে ২৪২ জনের প্রাণহানি

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৩:৫৮

যাত্রীকল্যাণ সমিতির হিসাব

বিশেষ প্রতিনিধি

ঈদুল আজহায় সীমিত আকারে পরিবহন চলাচল করলেও কমেনি সড়ক দুর্ঘটনা। দেশের সড়ক-মহাসড়কে ১৩ দিনে সংঘটিত ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত হন। আহত হন ৩৩১ জন। সড়কের সঙ্গে রেল ও নৌপথ মিলে ২৩৮টি দুর্ঘটনায় ৩১৭ জন নিহত এবং ৩৭০ জন আহত হন। গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন- ২০২০’ প্রকাশকালে এ তথ্য তুলে ধরেন।

সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সংগঠনটি ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রী হয়রানির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করে আসছে। করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর গণপরিবহন সীমিত আকারে চালু থাকায় ঈদযাত্রায় ব্যক্তিগত পরিবহন ও ছোট যানবাহনে যাতায়াত বেড়েছে। এ কারণে ব্যক্তিগত পরিবহনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বেড়েছে। বিগত ২৬ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে  রেলপথে চারটি দুর্ঘটনায় এক জন নিহত হন। একই সময়ে নৌ-পথে ৩৩টি ছোট-বড় বিছিন্ন দুর্ঘটনায় ৭৪ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত                  হন। ১৭ জন নিখোঁজের খবরও পাওয়া গেছে। এবারের ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয় ৪ আগস্ট। এদিনে ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩২ জন। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয় ৮ আগস্ট। এদিনে আটটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এক দিনে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় আহতের ঘটনা ঘটে ৩১ জুলাই। এদিনে ৫৫ জন আহত হন। এ সময়ে ৮৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১০৬ জন নিহত এবং ৬৫ জন আহত হন। এ বছর মোট সংঘটিত ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে ৮৮টি ঘটেছে মোটরসাইকেলের সঙ্গে অন্যান্য যানবাহনের সংঘর্ষ, যা মোট দুর্ঘটনার ৪৩.৭৮ শতাংশ। মোট নিহতের ৪৩.০৮ শতাংশ এবং মোট আহতের ১৯.৬৩ শতাংশ।

অন্যদিকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৫২.২৩ শতাংশ।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ যাত্রীর যাতায়াত হলেও সেই তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দুর্ঘটনারোধে ব্যক্তিগত যানবাহনের চালকদের প্রশিক্ষণ, নিয়ন্ত্রয়ক সংস্থা বিআরটিএসহ ট্রাফিক বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত, ছোট যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও গণপরিবহনকে বিকশিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনাকেও মহামারির মতো গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ, এডিটরস  ফোরামের সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী, ড্রাইভার্স ট্রেনিং সেন্টারের চেয়ারম্যান নুর নবী শিমু, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি তাওহীদুল হক লিটন, যুগ্ম মহাসচিব এম মনিরুল হক, জিয়া প্রমুখ।