অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরের তিন জাহাজ নিলামে যাচ্ছে

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৩:৫৯

সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস

অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরের ক্রয় করা তিনটি জাহাজ নিলামে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর জাহাজগুলো অলস বসে ছিল। ইতিমধ্যে জাহাজ তিনটি ভাড়ায় দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও আগ্রহী কাউকে পাওয়া যায়নি।

অবশ্য বন্দরসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, চাহিদা অনুযায়ী ভাড়ার মূল্য পাওয়া না যাওয়ায় ভাড়া দেওয়া হয়নি। তাছাড়া এর পরিচালনা ব্যয় ও আয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরাও পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছে না। তবে জাহাজ তিনটি কেনার পর এর পরিচালনা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরাই করেছিলেন। কিন্তু তা সুখবর বয়ে আনেনি। পরবর্তী সময়ে একটি শিল্প গ্রুপের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। প্রায় দুই বছর আট মাস পরিচালনার পর তারাও জাহাজ তিনটি ফেরত দেয়।

২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে চলাচলের জন্য এই তিনটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ক্রয় করে। চট্টগ্রাম থেকে নৌপথে কনটেইনার পরিবহনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১০ সালে নারায়ণগঞ্জের পানগাঁও এলাকায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করে। চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট কমানোর জন্য ঢাকা অভিমুখী কনটেইনার পরিবহনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ হলেও চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে কনটেইনারবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে কোনো জাহাজ কোম্পানি এগিয়ে আসেনি। ব্যবসায়িক লাভজনক দিক বিবেচনায় সাফল্য আসবে না ভেবে কারো আগ্রহ দেখা যায়নি।

সব দিক থেকে অনিশ্চয়তার পর্যায়ে পানগাঁও টার্মিনাল নির্মাণের পরও অনেক দিন অলস পড়ে থাকতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১৩ সালে নিজস্ব অর্থায়নে বিদেশ থেকে তিন কনটেইনারবাহী জাহাজ ক্রয় করে। প্রায় ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এমভি পানগাঁও এক্সপ্রেস, পানগাঁও ভিশন ও পানগাঁও সাকসেস নামক তিনটি পুরোনো জাহাজ ক্রয় করা হয়। প্রতিটি ১২০ থেকে ১৪০টি কনটেইনার পরিবহন ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ। বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জাহাজগুলো চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে চালু করে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। জাহাজ তিনটি কেনাসহ এর পরিচালনা নিয়ে সে সময় গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা দেখা যায়। এক পর্যায়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজ তিনটি বেসরকারি একটি শিল্প গ্রুপের কাছে দিয়ে দেয়। প্রতিটি জাহাজ মাসিক ১৪ লাখ টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের শেষের দিকে দুই বছর আট মাস চালানোর পর তারাও লোকসানের কারণে ফেরত দেয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ বকেয়া ভাড়ার টাকা ও জাহাজের কন্ডিশন পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ছয় মাস গ্রহণ করেনি। এক পর্যায়ে উভয়ের সমঝোতার ভিত্তিতে ১ কোটি ২ লাখ টাকার বিনিময়ে জাহাজ গ্রহণ করা হয়।

২০১৭ সালের শেষের দিক থেকে এ পর্যন্ত জাহাজ তিনটি চট্টগ্রাম বন্দরে অলস পড়ে আছে। এরই মধ্যে জাহাজ তিনটি ভাড়ায় দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু কেউই প্রতিটি জাহাজ ১৪ লাখ টাকায় ভাড়ায় নিতে আগ্রহ দেখায়নি। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজ তিনটি নিয়ে এক প্রকার বিপাকে পড়ে। প্রতিনিয়ত লোকসানের মুখে পড়তে থাকে। শেষ পর্যায়ে তা বিক্রির ব্যাপারে বন্দরের আইন উপদেষ্টার মতামত গ্রহণ করা হয়। বন্দরের আইন উপদেষ্টা ইতিপূর্বে একবার মতামত প্রদানের পর গত ৪ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় মতামত প্রদান করেন। এতে জাহাজ তিনটি প্রতিযোগিতা মূল্যে নিলামে বিক্রির পরামর্শ প্রদান করে। বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, জাহাজ তিনটির ব্যাপারে আইন উপদেষ্টার মতামতসহ সিদ্ধান্তের জন্য বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।