বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী আজ

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২০, ০১:১৪

নড়াইল প্রতিনিধি

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষ্যে নড়াইলের জেলা প্রশাসন এবং এস এম সুলতান ফাউন্ডেশন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শিল্পীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা। বরেণ্য এই শিল্পী ১৯২৪ সালের এই দিনে নড়াইলের চিত্রা নদীর পারে অবস্থিত মাছিমদিয়া গ্রামে বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

বাঙালি জাতিসত্তার গভীরতম অন্তরভূমিতে সহস্র বছর ধরে যে অমিত শক্তি সুুপ্ত ছিল, তারই নান্দনিক শৈল্পিক প্রকাশের অন্যতম সূর্যসারথি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান। চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ৭০ বছরের বোহেমিয়ান জীবনে তুলির আঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতি মানুষের সঙ্গে নিজেকে একাকার করে সৃষ্টি করেছেন ‘পাট কাটা’, ‘ধান কাটা’, ‘ধান ঝাড়া’, ‘ধান ভানা’, ‘জলকে চলা’, ‘চর দখল’, ‘গ্রামের খাল’, ‘গ্রামের দুপুর’, ‘নদী পারাপার’, ‘ধান মাড়াই’, ‘জমি কর্ষণে যাত্রা’, ‘মাছ ধরা’, ‘নদীর ঘাটে’, ‘গুন টানা’, ‘ফসল কাটার ক্ষণে’, ‘শরতের গ্রামীণ জীবন’, ‘শাপলা তোলা’র মতো বিশ্ববিখ্যাত সব ছবি। ১৯৫০ সালে ইউরোপ সফরের সময় যৌথ প্রদর্শনীতে তার ছবি সমকালীন বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভেদর দালি, পল ক্লি, কনেট, মাতিসের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। সুলতানই একমাত্র এশিয়ান শিল্পী, যার ছবি এসব শিল্পীর ছবির সঙ্গে একত্রে প্রদর্শিত হয়। কালোত্তীর্ণ এই শিল্পী ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্সিয়াল আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক পান। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।