ওসি প্রদীপের সাড়ে ৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২০, ০১:১৬

ইত্তেফাক রিপোর্ট

কক্সবাজারের টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সাময়িক বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকীর বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শিগিগরই কমিশন থেকে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। গত ৩১ জুলাই মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ। এ ঘটনায় গত বুধবার টেকনাফের ওসি প্রদীপ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদসে?্যর বিরুদ্ধে মামলা করেন সিনহার বোন শারমিন রহমান। পরে গত ৭ আগস্ট ওসি প্রদীপসহ সাত জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের মাঝামাঝিতে ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পায় দুদক। এরপর সেসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ধারাবাহিকতায় দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এরপর ঐ বছরই তাদের সম্পদের বিবরণ চেয়ে কমিশন থেকে নোটিশ করা হয়। নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্সপেক্টর প্রদীপ কমিশনে ৭০ লাখ টাকার কিছু বেশি সম্পদের বিবরণ দাখিল করেন এবং তার স্ত্রী চুমকীর নামে সাড়ে ৪ কোটি টাকার সম্পদের ঘোষণা দেন। ঐ বিবরণীতে স্ত্রী চুমকীকে মত্স্য ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

দুদকের কর্মকর্তা অনুসন্ধান চালিয়ে ইন্সপেক্টর প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পান। যার মধ্যে তার নিজের ও স্ত্রীর নামে কক্সবাজার শহরে ৪ শতাংশ জমি, ছয়তলা ভবন, ফ্ল্যাট ও দুটি হোটেলের মালিকানার তথ্য রয়েছে। এসব অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে।