মহানন্দায় ভেসে আসা পাথর তোলাই জীবিকা যাদের!

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২০, ২২:১৬

কয়েক মাস বিরতির পর তেঁতুলিয়া উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা মহানন্দা নদী এখন পাথর শ্রমিকে ভরপুর। যন্ত্রপাতি নিয়ে ভোর থেকে শুরু করে বিকাল পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করছে শ্রমিকরা। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে খরস্রোতা এই নদী বয়ে আনে প্রচুর ছোট-বড় পাথর। নদীর পানি কমে গেলেই পাথর শ্রমিকরা দল বেঁধে নেমে পড়ে পাথর তুলতে।

নদী পাড়ের বাংলাবান্ধা, ঝাড়ুয়াপাড়া, জায়গীরজোত, সন্যাসীপাড়া, উকিলজোত, কাশিমগঞ্জ, দক্ষিণ কাশিমগঞ্জ, জামাদার গছ, ভক্তিডাঙ্গী, খয়খাটপাড়া, দৌলতপাড়া, দরগাসিং, রনচন্ডি, ইসলামপুর, কালারাম জোত, বুড়িমুটকি, সর্দারপাড়াসহ আশপাশের প্রায় ৫০টি গ্রামের কয়েক হাজার পাথর শ্রমিক মহানন্দা নদী থেকে পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

সিপাইপাড়া গ্রামের পাথর শ্রমিক মোজাম্মেল হোসেন জানান, মহানন্দা আমাদের প্রাণ, রুটি রুজির স্থান। বর্ষায় কয়েক দিন বাদে আমরা সারা বছর এই নদী থেকে পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। এই নদীটি দুই দেশের সীমানা হওয়ায় অনেক সময় বিএসএফর তাড়াও খেতে হয়। তার পরও আমাদের পেটের তাগিদেই নদীতে নামতে হয়।

তীরনই হাট ইউপির ডেমগছ গ্রামের পাথর শ্রমিক ইব্রাহিম ও হাবিবুল্লাহ জানান, প্রতিদিন দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত মহানন্দায় পাথর তুলে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার করি। কম সময়ে বেশি পাথর পাওয়ায় অধিকাংশ শ্রমিক মহানন্দা থেকে পাথর উত্তোলন করে আসছে। সমতল ভূমিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় সেখানকার শ্রমিকরাও মহানন্দায় পাথর উত্তোলনে নামছে। তেঁতুলিয়ার পাথর শ্রমিক নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তারুল হক মুকু জানান, তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদী এই এলাকার খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য আশীর্বাদ। এই নদীর ওপর নির্ভর করে হাজারও পরিবার বেঁচে আছে। মহামারি করোনার কারণে প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর মধ্য জুলাই থেকে শ্রমিকরা আবারও মহানন্দায় পাথর তুলছে। ড্রেজার ও সমতল ভূমি থেকে পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় এখানকার পাথরই এখন নির্মাণ কাজের একমাত্র ভরসা।