ভোলার মনপুরার ঢালচরের পুলিশ ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার গুঞ্জনে হাজার হাজার ইলিশ জেলেদের মধ্যে জলদস্যু আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই ক্যাম্প উঠিয়ে নেওয়ার গুঞ্জনকে পুঁজি করে হাতিয়ার জলদস্যু মহিউদ্দিন বাহিনী জেলেদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে নদীতে মাছ ধরার পারমিশন কার্ড সংগ্রহ করতে। এতে জেলেরা দিশাহারা হয়ে কার্ড সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এনিয়ে জেলে ও আড়তদাররা স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ চেয়ারম্যানদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। জলদস্যুদের ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন মত্স্য ঘাটের কমপক্ষে কয়েকজন জেলে জানান, শুনেছি ঢালচরের পুলিশ ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়া হলে মেঘনায় মাছ শিকার করা যাবে না। তাই বাধ্য হয়ে হাতিয়ার জলদস্যু মহিউদ্দিন বাহিনীর কাছ থেকে মেঘনায় মাছ ধরার কার্ড সংগ্রহ করছি।
সরেজমিনে বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, অনেকে নিজেদের মাছ ধরার নৌকায় মহিউদ্দিন বাহিনী থেকে সংগ্রহ করা পারমিশন কার্ড ‘আল্লাহর দান’ নৌকার সামনে বুটপিন দিয়ে আটকে রেখেছেন। আবার অনেকে ‘আল্লাহর দান’ কার্ডটি লেমিনেটিং করে নিজেদের কাছে রাখছেন। জেলেদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী হাতিয়ার জলদস্যু মহিউদ্দিন নিজেই ফোন করে কার্ড সংগ্রহ করতে বলেন। স্থানীয় কিছু জেলে ঐ দস্যু বাহিনীকে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ সাধারণ জেলেদের। বড় মাছ ধরার নৌকা ১০ হাজার টাকা ও ছোট মাছ ধরার নৌকার জন্য ৫ হাজার টাকা দিয়ে দস্যু বাহিনীর কাছ থেকে পারমিশন কার্ড সংগ্রহ করতে হয়। রাতে-দিনে মেঘনায় মাছ শিকারের সময় ঐ কার্ড দেখালে দস্যু বাহিনী ছেড়ে দেয়। অনেক জেলে টাকার অভাবে কার্ড সংগ্রহ করতে না পারায় ভয়ে ভয়ে মাছ শিকার করছেন। তাদের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা। মত্স্য আড়তদার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান অলিউল্লা কাজল ও আড়তদার হাজিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক জানান, ঢালচরের পুলিশ ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এমন গুঞ্জনে জেলেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এই সুযোগে জলদস্যু বাহিনী জেলেদের চাপ দিয়ে কার্ড সংগ্রহ করতে বলছে। জেলেরাও জলদস্যুদের কাছ থেকে কার্ড সংগ্রহ করছে। পুলিশ ক্যাম্প উঠিয়ে নিলে জলদস্যুরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠবে। এতে বিপদে পড়বে হাজার হাজার জেলে। এই ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান শেলিনা আকতার চৌধুরী জানান, ঢালচরের পুলিশ ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়া হলে জলদস্যু আতঙ্কে থাকবে জেলেরাসহ ঢালচরের বসবাসরত মানুষ। তাই ঢালচরে পুলিশ ক্যাম্প না সরানোর দাবি করছেন তিনি। ভোলা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, জেলেদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপাতত ঢালচরের পুলিশ ক্যাম্প সরানো হচ্ছে না।
