এ দেশের সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তি সুরকার আলাউদ্দিন আলী মারা যান গত রবিবার বিকালে। তার মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনের সকল গুণী ব্যক্তি শোক জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার সকালে আলাউদ্দিন আলীর মরদেহ প্রথমে তার বনশ্রীর বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে বিটিভির সহকর্মীবৃন্দ ও এলাকাবাসীর জন্য মরদেহ রাখা হয় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত। সেখান থেকে নেওয়া হয় খিলগাঁওয়ে আলাউদ্দিন আলীর আদি বাড়িতে। সেখানে তাকে শেষবার দেখেন শিল্পীর প্রথম স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও অন্য স্বজনরা। এরপর বাদ জোহর খিলগাঁও তালতলা মোড়ে নূর-এ-বাগ জামে মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এফডিসিতে। এ সময় আলাউদ্দিন আলীকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে হাজির হন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, চিত্রগ্রাহক সংস্থা, গীতিকবি সংঘ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সহকারী পরিচালক সমিতিসহ অনেকে। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আলাউদ্দিন আলীর ছেলে শওকত আলী গানা ও মেয়ে আলিফ আলাউদ্দিন। এরপর এফডিসিতে আলাউদ্দিন আলীর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয় তাকে।
তার লেখা, সুর করা ও সংগীত পরিচালনায় অসংখ্য গান শ্রোতাপ্রিয় হয়েছে। চলচ্চিত্র, বেতার, টেলিভিশন মিলে প্রায় ৫ হাজার গান তৈরি করেছেন তিনি। সেসব গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। তবে চলচ্চিত্রের গানে বিশেষভাবে জড়িয়ে ছিলেন আলাউদ্দিন আলী। এখানে কাজ করা শুরু তার বেহালাবাদক হিসেবে ১৯৬৮ সাল থেকে। এরপর নিজেই সংগীত পরিচালনা করেছেন। সুর করেছেন অসংখ্য কালজয়ী গানে। গান লিখেছেনও তিনি। সাত বার জিতেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এর মধ্যে পাঁচ বার জিতেছেন সংগীত পরিচালক হিসেবে, এক বার জিতেছেন সুরকার হিসেবে এবং এক বার গীতিকার হিসেবে।
চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আলাউদ্দিন আলীই একমাত্র সংগীত পরিচালক যিনি ১৯৭৮, ১৯৭৯ এবং ১৯৮০ সালে টানা তিন বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করে নেন। তার সুরে তিনটি ছবিতে গান গেয়ে টানা তিন বার সেরা গায়ক হিসেবে আব্দুল হাদী ও সেরা গায়িকা হিসেবে সাবিনা ইয়াসমিনও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তিনটি ছবিরই পরিচালক প্রয়াত আমজাদ হোসেন।
