শোককে শক্তিতে পরিণত করাই হোক আগস্টের অঙ্গীকার

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২০, ২৩:১২

আগস্ট মাসটি অন্য সব মাসের মতোই একটি মাস মাত্র। এই মাস শোকাবহ হওয়ার কথা ছিল না। ১৯৪৭ সালের এই মাসেই ইংরেজ আমাদের দেশ ছেড়ে চলে যায়। কাজেই আগস্ট আমাদের জন্য শুভ মাস হিসেবে এসেছিল। কিন্তু হায়, আমরা কি জানতাম ১৯৭৫-এর আগস্ট আমাদের জন্য কেবল শোকাবহ হয়ে আসবে না, বরং আসবে সর্বনাশের ঘণ্টা বাজিয়ে!

কথাটি বাস্তবে এমনই হয়ে গেল।

বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলেন। এই নিধনযজ্ঞের মধ্য দিয়ে শুধু বঙ্গবন্ধুরই মৃত্যু ঘটল না, মৃত্যু ঘটল স্বাধীন বাংলাদেশের আদর্শবাদের। যে চার নীতির ওপর ভর করে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলাম, সেই চার নীতিকে পুরোপুরি জলাঞ্জলি দেওয়ার জন্যই যেন ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট এসেছিল। এই দুর্ঘটনা যারা ঘটিয়েছিল, তারা সবাই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাংবিধানিক-ভাবে যুক্ত ছিল।                 তাদের নাটের গুরু ছিল খন্দকার মোশতাক। সে ছিল বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের সক্রিয় এজেন্ট। বঙ্গবন্ধুর আসল হত্যাকারীদের ভুললে চলবে না।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক তার ভাষণ শেষ করেছিল বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে। জয় বাংলাকে উচ্ছেদ করল পাকিস্তানি ধাঁচের জিন্দাবাদ দিয়ে। মোশতাক ক্ষমতা দখলের সঙ্গে সঙ্গে ১৫ই আগস্টের রাতে বিবিসি থেকে শোনা গিয়েছিল যে বাংলাদেশকে ইসলামিক রিপাবলিক রাষ্ট্র ঘোষণা করা হতে পারে। সেই রাতেই নতুন বাংলাদেশ সরকারকে পাকিস্তান স্বীকৃতি জানায়। বলা হতে পারে, পাকিস্তানের ভূত বাংলাদেশের ঘাড়ে এসে ১৫ই আগস্টের আছর করেছিল, সেই আছরের হাত থেকে এখনো আমরা মুক্তি পাইনি। নানাভাবে পাকিস্তানিকরণের হাতে বিপর্যস্ত হতে চলেছি। সেই বিপর্যয় রোধ করার প্রতিজ্ঞা গ্রহণের বার্তা নিয়ে এসেছে এবারের আগস্ট।

শোকাবহ আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিণত করার প্রত্যয় নিতে হবে আমাদের।

লেখক :বুদ্ধিজীবী