পশ্চিম আফ্রিকার স্থলবেষ্টিত দেশ নাইজারে ত্রাণকর্মীদের একটি দলের ওপর বন্দুকধারীদের হামলায় ছয় ফরাসি নাগরিক, তাদের স্থানীয় পথপ্রদর্শক ও গাড়িচালক নিহত হয়েছেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রবিবার দেশটির একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে মোটরসাইকেলে করে আসা বন্দুকধারীরা এ হামলাটি চালায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে স্থানীয় টিলাবেরি অঞ্চলের গভর্নর টিজানি ইব্রাহিম কাটিয়ালা জানিয়েছেন, নাইজারের রাজধানী নিয়ামে থেকে মাত্র ৬৫ কিলোমিটার দূরে একটি জিরাফ অভয়ারণ্যে হামলার ঘটনাটি ঘটে। তিনি বলেন, ‘পথরোধ করার পর তাদের হত্যা করা হয়।’ ফ্রান্সের ঐ ছয় নাগরিক একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণসংস্থায় কাজ করত বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন নাইজারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউসুফু কেতমবি। এর আগে দেশটির কর্মকর্তারা নিহতদের পর্যটক বলে উল্লেখ করেছিলেন। ফরাসি মানবিক ত্রাণ সংস্থা এসিটিইডির একজন মুখপাত্র পৃথকভাবে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তাদের কর্মীরাও রয়েছেন।
নাইজারে ফরাসি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাত্রেঁদ্ধার দপ্তর। ম্যাত্রেঁদ্ধা ফোনে নাইজারের প্রেসিডেন্ট মাহামাদু ইসুফুর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে তারা, কিন্তু এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানা যায়নি। এক বিবৃতিতে নাইজারের কুয়ো জিরাফ রিজার্ভ গাইড অ্যাসোসিয়েশন হামলাকারীদের ‘সন্ত্রাসীদের ইউনিট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তাদের সভাপতি কাদরি আবদু রয়েছেন বলে জানিয়েছে। ফ্রান্সের টিএফওয়ান টেলিভিশন চ্যানেল কিছু ছবি সম্প্রচার করে সেগুলো ঘটনাস্থল থেকে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে। ছবিগুলোতে একটি পোড়া ফোর হুইল ড্রাইভ জীপ ও এর একপাশে কয়েকটি গুলির গর্ত দেখা গেছে।
তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে নাইজারের কয়েকটি অঞ্চলে যেখানে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেটের অনুগত গোষ্ঠীসহ জঙ্গিদের তত্পরতা আছে, সেসব এলাকায় ভ্রমণ না করতে লোকজনকে সতর্ক করেছিল ফ্রান্স ও অন্যান্য কয়েকটি দেশ। উল্লেখ্য, গত জুন মাস থেকে ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পশ্চিম আফ্রিকা ও ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে অভিযান চালাচ্ছে ফ্রান্স।
