অণুগল্প

ঠিকানা বদল

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২০, ২১:৩৫

মুনা, তোদের বাসায় গিয়েছিলাম, কিন্তু কী আশ্চর্য কোথাও তোকে পেলাম না। আমি জানতাম না তুই তোর ঠিকানা বদলে ফেলেছিস। ঠিকানা বের করতে একটু সময় তো লাগবেই। শেষপর্যন্ত একটা ছোট্ট মাটির ঘরকেই তোর পছন্দ হলো। তোর মতো শৌখিন মেয়ের জন্যে ব্যাপারটাকে মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তুই কেমন আছিস? জানি না, কিছু বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয় না। তোর ছোট্ট মেয়েটা তানাজের কথা তোর মনে হয় না...

তোর নিশ্চয় মনে আছে, স্কয়ার হাসপাতালে তানাজকে আমি কথা দিয়েছিলাম, তোর মাকে মরতে দেব না। তুইও কথা দিয়েছিলি। কিন্তু শেষপর্যন্ত কী হলো? তুই এটা কী করলি মুনা! মেয়েটাকে ছেড়ে চলে গেলি! তোর কাছ থেকে এটা আমি আশা করিনি।

তানাজ খুব সপ্রতিভ চঞ্চল একটা মেয়ে। আমাকে বলল, নানু তোমাকে একটা গান শোনাব। আমি বললাম, বেশ শোনাও। আমাকে আনাজ গান শোনাল। তানাজের গান শুনে তোর ছোট্টবেলার কথা মনে পড়ে গেল।

একটা কবিতাও শোনাল তানাজ। তুই তো কবিতার মতো করে জীবনটাকে সাজাতে চেয়েছিলি। আমি জানি, হীরক তোকে সব রকমের সাহায্য করত। তাহলে সমস্যা কোথায় হলো? তোকে চলে যেতে হলো কেন? তোর মেয়ে সারা দিন তোকে খোঁজে।

তোদের ছোট্টবেলার কথা মনে পড়ছে। তোরা এসে আবদার করতিস। ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ আর ‘সাজন’—এ দুটো হিন্দি ছবি তোদের খুব প্রিয় ছিল। আমার বাসায় যেন একরাশ হাসিখুশি আসত। নেমে আসত অঝর ধারায় আনন্দ। সেই আনন্দ আমি আবার ফিরে পেতে চাই, তা কি হতে পারে না মুনা?