ডিভোর্সের পর ত্রিভুজ প্রেমের বলি সুজন

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৩

দীর্ঘ ৯ বছর পর সবুজবাগ এলাকায় চাঞ্চল্যকর সুজন হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনবেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. ফজলু ওরফে কুটিকে (৪২) রাজধানীর মুগদা থানাধীন জান্নাতবাগ এলাকা থেকে সোমবার গ্রেফতার করে পিবিআই। এর আগে এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়, আছমা আক্তার ইভা, মো. আরিফুল হক ওরফে আরিফ ও মো. রানা ওরফে বাবুকে।

পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ইউনিট ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওসমান গনি জানান, ত্রিভুজ প্রেমের ঘটনায় ২০১১ সালের ১৪ মে সুজনকে খুন করে লাশ সবুজবাগ থানাধীন দক্ষিণ রাজারবাগ বাগপাড়া শেষমাথা খালে গুম করা হয়। ঘটনার চার দিন পর লাশ ভেসে উঠলে পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। মর্গে সুজনের লাশ শনাক্ত করেন তার বাবা আব্দুল মান্নান ও মা হাফসা বেগম। সুজনের বাবা বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ডিবি দীর্ঘ সাত বছর তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তথাপিও ঘটনার প্রকৃত রহস্য ও ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত পলাতক আসামি আছমা আক্তার ইভা, মো. আরিফুল হক ওরফে আরিফ ও মো. রানা ওরফে বাবু গ্রেফতার না হওয়ায় এবং পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। উক্ত অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে ভিকটিমের বাবা না-রাজির আবেদন করেন। আদালত পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করার নির্দেশ দেন।

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওসমান গনি আরো বলেন, ২০০৮ সালে ভিকটিম সুজনের সঙ্গে ইভার বিয়ে হয় এবং ২০০৯ সালে ইভা সুজনকে ডিভোর্স দেয়। ডিভোর্স দেওয়ার পরও সুজন প্রায় সময় ইভাকে দেখার জন্য তাদের এলাকায় আসা যাওয়া করত। এদিকে ইভার সঙ্গে সুজনের বিয়ে হওয়ার পূর্বেই স্থানীয় ছেলে ফাইজুল ইভাকে পছন্দ করত। ফাইজুলের সঙ্গে ইভার বড় ভাই আরিফ বন্ধুর মতো চলাফেরা করত। ফাইজুল বিভিন্ন সময় ইভাদের বাসায় আসা যাওয়া করত। এই ঘটনা নিয়ে ফাইজুল এবং ইভার বড় ভাই আরিফ ও সুজনের মধ্যে বিভিন্ন সময় তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। সুজনকে হত্যার সাত-আট দিন পূর্বে ফাইজুল সুজনকে মারধর করে। ২০১১ সালের ৩ মার্চ আরিফুল হক, ফাইজুল তাদের বন্ধু কুটি ও কালা বাবু দক্ষিণ রাজারবাগের বাগপাড়ায় ইভাদের বাসার সামনে মাঠে বসে সুজনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১১ সালের ১৪ মার্চ সন্ধ্যায় আরিফ, কালা বাবু, ফাইজুল ও কুটি একটি পলিথিন ব্যাগ ও লাঠি নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। এরপর কুটি ভিকটিম সুজনকে ডেকে আনে বাগপাড়া খালপাড় বালুর মাঠে। বিভিন্ন কথাবার্তার একপর্যায় ফাইজুল সুজনকে পিছন থেকে হাত দুইটি আটকে ধরে। কুটি পলিথিন ব্যাগ নিয়ে সুজনের মাথার ওপর থেকে গলায় ঢুকিয়ে দিয়েই গলার মধ্যে পেঁচ দিয়ে গিট দিয়ে ফেলে। পরে সবাই মিলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে সুজনকে। পরে তারা লাশ পাশেই খালে ফেলে দেয়। কুটি এবং কালা বাবু খালের নিচে নেমে সুজনের লাশ পানিতে ভাসিয়ে দেয়।

আদালতের নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার পিবিআইতে দেওয়ার পর আছমা আক্তার ইভা, মো. আরিফুল হক ওরফে আরিফ ও মো. রানা ওরফে বাবুকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্য থেকে পুলিশ মূল অভিযুক্ত মো. ফজলু ওরফে কুটিকে (৪২) গ্রেফতার করে।