গার্মেন্টস শ্রমিকরা তিন মাসে সোয়া ৪ হাজার কোটি টাকার মজুরি হারিয়েছে

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৯

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমে যাওয়া ও দেশে লকডাউনসহ বিভিন্ন কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকরা। আন্তর্জাতিক শ্রমিক অধিকার বিষয়ক প্ল্যাটফরম ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইন (সিসিসি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাসে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকরা ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ মজুরি কম পেয়েছে। অর্থাত্ স্থানীয় মুদ্রায় আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকরা মজুরি হারিয়েছে প্রায় সোয়া ৪ হাজার কোটি টাকা। দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মজুরি পরিস্থিতি নিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

‘আন্ডার পেইড ইন দ্য প্যানডেমিক’ শীর্ষক ঐ প্রতিবেদনে শ্রমিকের কম মজুরি কিংবা মজুরি না পাওয়ার পেছনে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর পোশাক না নেওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ব্র্যান্ডগুলোর বাতিল হওয়া ক্রয়াদেশের ফলে তিন মাসে পোশাক শ্রমিকদের মজুরিবিহীন ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিকরা নিয়মিত আয়ের ৩৮ শতাংশ পেয়েছেন। ভারতের কিছু অঞ্চলে এ হার ৫০ শতাংশেরও বেশি। হাতেগোনা কয়েকটি দেশ বাদে অন্য দেশগুলোর শ্রমিক মার্চ থেকে মে মাসের মজুরি বাবদ ন্যূনতম ৩ দশমিক ১৯ থেকে ৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন।

অবশ্য তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা  বলছেন, দায় বায়ারদের হওয়া সত্ত্বেও কারখানা প্রতিবেদনটিতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানা মালিকদের অবমাননা করা হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক ইত্তেফাককে বলেন, চূড়ান্ত দায় বায়ারদের, অথচ আমাদের হেয় করা হয়েছে। দেশে যখন শ্রমিকরা কাজ করেনি (বন্ধের সময়), ঐ সময়ের জন্যও শ্রমিকদের ৫৩ কোটি ডলারের বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ একই সময়ে অন্য দেশগুলো ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ পদ্ধতিতে গিয়েছিল। প্রতিবেদনে সমস্যার মূলে না গিয়ে কারখানা মালিকদের হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।