‘পাচারকৃত অর্থ ফেরত প্রদানে উন্নত দেশগুলোর ভূমিকা স্বচ্ছ নয়’

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৯

যে কোনো উপায়ে অর্থ পাচার প্রতিরোধের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, অর্থ পাচার হয়ে গেলে ফেরত আনা কঠিন। এক্ষেত্রে পাচারকৃত অর্থ ফেরত প্রদানে উন্নত দেশগুলোর ভূমিকাও স্বচ্ছ নয় এবং তাদের আগ্রহ ও অঙ্গীকারের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। ফলে দক্ষ জনবল নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে পাচার প্রতিরোধে ব্যাংকসমূহকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কর্তৃক জারিকৃত ‘গাইডলাইনস ফর প্রিভেনশন অব ট্রেড বেজড মানি লন্ডারিং’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মো. আসাদুল ইসলামের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, বিএফআইইউ এর প্রধান কর্মকর্তা, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকসমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। বিএফআইইউ এর প্রধান কর্মকর্তা আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, বিএফআইইউ, দুদক ও সিআইডির যৌথ উদ্যোগে প্রণীত ‘বাংলাদেশের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঝুঁকি নিরূপণ প্রতিবেদন’ এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং ও বিদেশে অর্থ পাচারকে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

উক্ত প্রেক্ষাপটে বিএফআইইউ, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন এর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি গ্রুপ গঠন করে আলোচ্য গাইডলাইনটি প্রণয়ন করে। সভায় বিএফআইইউ এর পক্ষ হতে গাইডলাইন্স উপস্থাপনকালে বলা হয়, চীন কিংবা ভারতের মতো দেশগুলো থেকে অর্থপাচার বেশি হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশই বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের জন্য বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে এ ধরনের গাইডলাইন্স জারি করেছে। কেবল বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিং প্রতিরোধকল্পে পৃথক কোনো গাইডলাইন্স জারির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫ম এবং এশিয়ায় ৩য়। বক্তারা বলেন, বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে ক্যাপিটাল মেশিনারির প্রকৃত দাম নির্ণয় করা জটিল। একটি কেন্দ্রীয় সেল থেকে প্রাইস মনিটরিং-এর প্রস্তাব করেন বক্তারা। অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস-উল-ইসলাম বলেন, সরকারি ব্যাংকসমূহ বেশির ভাগ সরকারি এলসি নিয়ে কাজ করে। বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং ও অর্থপাচারের সম্ভাবনা কম হওয়া সত্ত্বেও রেটিং কম পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।