চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে ঢাকায় মহা-অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনের ডাক দিয়েছে দেশের ১৮টি শিক্ষক ও কর্মচারীদের সংগঠনের অন্যতম বৃহত্তম মোর্চা শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট।
সংবাদ সম্মেলনে জোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, দেশের বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করা হলে সরকারের এক টাকাও বাড়তি খরচ হবে না, বরং বছরে ৮০ কোটি টাকা সরকারি তহবিলে জমা হবে। তিনি আর্থিক হিসাব তুলে ধরে বলেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হলে সরকারের বছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। অন্যদিকে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বর্তমানে সরকার থেকে বেতন বাবদ ১২ হাজার কোটি টাকা প্রদান করা হয়। চাকরি জাতীয়করণ হলে সরকারকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, চিকিত্সা ভাতা, বাড়িভাড়া, উত্সব ভাতার জন্য অতিরিক্ত প্রদান করতে হবে ৫ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। বিপরীত দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের বছরে আয় হবে ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। সেই বাকি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ হলে ৮০ কোটি টাকা সরকারের সাশ্রয় হবে।
ঐক্যজোটের নয়াপল্টন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. জাকির হোসেন, প্রিন্সিপাল আবদুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মাঈনুদ্দিন, অধ্যাপক রকিব উদ্দিন, অধ্যাপক রাশেদুল ইসলাম, অধ্যাপক জানে আলম দীপু, সিরাজুল আলম, লুত্ফর রহমান, সানু মিয়া, সোলায়মান চৌধুরী প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, কোভিড-১৯-এর কারণে আজ বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে ছাত্রছাত্রীদের বেতন আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত বেতন পাচ্ছেন না। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফান্ড থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের বেতন না দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
