পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষী গ্রেফতার

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২০, ২৩:০০

মেজর (অব) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যার পর পুলিশের দায়ের করা হত্যা মামলার তিন সাক্ষীকে গ্রেফতার করেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র্যাব-১৫-এর একটি টিম। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তাদের গ্রেফতারের পর সিনিয়র বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। তাদের প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়েছে র্যাব। কক্সবাজার র?্যাব-১৫-এর উপঅধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের মারিশবনিয়া এলাকার নাজু সওদাগরের ছেলে মো. নুরুল আমিন, জালাল আহমদের ছেলে মো. আয়াস ও নাজির আহমদের ছেলে নাজিম উদ্দিন। তারা তিন জনই পুলিশের দায়েরকৃত মামলার সাক্ষী। 

কক্সবাজার র?্যাব-১৫-এর উপঅধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান বলেন,  এই তিন জনও সিনহা হত্যায় সম্পৃক্ত বলে সন্দেহ হওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। বিকালে আদালতে হাজির করে তাদের প্রত্যেককে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা এখনো পাওয়া যায়নি।

গ্রেফতার হবার আগে সাক্ষীরা গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছিলেন, এই হত্যার বিষয়ে তারা কেউ নিজের চোখে কিছু দেখেননি। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে তাদের ডেকে নেওয়া হয়। পরে সকালে টেকনাফ থানায় নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা। পরে জানতে পারেন তাদেরকে সাক্ষী করা হয়েছে।

তবে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতরাই সিনহাকে ডাকাত ডাকাত বলে অপপ্রচার করেছিল। আর তাদের সহযোগিতা করেছিল ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। ঘটনার সময় দেলোয়ার নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে সিনহার প্রাইভেট কারটি অনুসরণ করেন। পহেলা আগস্ট থেকে দেলোয়ার গা-ঢাকা দিয়েছেন।

গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাতে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোডে টেকনাফের বাহারছড়া চেকপোস্টে তল্লাশির সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ তড়িঘড়ি করে দুটি মামলা করেন। মামলায় নিহত সিনহার সফরসঙ্গী সিফাতকে আসামি করা হয়। সেই মামমলায় স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশের সদস্যসহ বেশ কয়েক জনকে সাক্ষী করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা সেই সাক্ষীদের কয়েক জন। 

এদিকে, গত ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরিদর্শক লিয়াকত আলী, ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। র্যাবের পক্ষে প্রত্যেক আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত লিয়াকত, প্রদীপ ও নন্দ দুলাল রক্ষিতকে সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাকি চার জনকে দুই দিন কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। অন্য দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। চার জনকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার আবারও ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে তদন্ত সংস্থা।    

গত ৩১ জুলাই রাতে সিনহা নিহতের ঘটনার পর পুলিশের করা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কক্সবাজার কারাগারে ছিলেন বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথ। এরা ৯ ও ১০ আগস্ট পৃথকভাবে জামিনে মুক্তি পান। এ ছাড়া তাহসিন রিফাত নূরকে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।