আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমেছে

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২০, ২৩:০২

দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্তের ১৫৭তম দিনে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৮২০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৯৯৬ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সোমবার ১২ হাজার ৮৪৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৯০৭ জন করোনা শনাক্ত হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ২২ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে গতকাল শনাক্তের হার ২ দশমিক ৪ শতাংশ কম।

গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান। দেশে এ পর্যন্ত মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৬৩ হাজার ৫০৩ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ৩৩ জন মারা গেছেন। সোমবারের চেয়ে গতকাল ৬ জন কম মারা গেছেন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় গতকাল মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত ৫ আগস্ট থেকে মৃত্যুর একই হার বিদ্যমান রয়েছে।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫৩৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৭২ জন। তিনি জানান, গতকাল শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৫৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে গতকাল সুস্থতার হার শূন্য দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কম।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৩১৭ জনের। ৮৬টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৪ হাজার ৮২০ জনের। সোমবারের চেয়ে গতকাল ২ হাজার ৪৬২টি নমুনা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, যারা মারা গেছেন তাদের ২৮ জন পুরুষ এবং ৫ জন নারী। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে এটাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শেষ ভিডিও বুলেটিন ছিল জানিয়ে ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘আপনারা ইতিমধ্যে জেনে গেছেন, আজ বুধবার থেকে এই অনলাইন বুলেটিন আর হবে না। তবে আগের মতোই প্রেস রিলিজ আকারে তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সবগুলো তথ্যই থাকবে। তথ্য প্রবাহে কোনো ঘাটতি থাকবে না। তথ্য নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো হবে।’

গত ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে করোনা ভাইরাস ইস্যুতে প্রথম ব্রিফিং আয়োজন করে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা নিজেই ব্রিফিং করতেন। পরে আইইডিসিআরের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও সরাসরি ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়। এরপর মার্চের শেষের দিকে ডা. ফ্লোরার পরিবর্তে নিয়মিত ব্রিফিং পরিচালনা করতে থাকেন অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগের পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘ব্রিফিং’ বাদ দিয়ে ‘বুলেটিন’ আকারে তথ্য উপস্থাপন করতে শুরু করে অধিদপ্তর। তখন থেকে স্বাস্থ্য বুলেটিনে নিয়মিত তথ্য উপস্থাপন করতেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।