বিশ্বে প্রথম করোনার টিকা তৈরির দাবি রাশিয়ার

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২০, ২৩:০২

সব দেশকে পেছনে ফেলে মহামারি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করল রাশিয়া। গতকাল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন, রাশিয়া বিশ্বের প্রথম করোনা ভাইরাস টিকা উদ্ভাবক হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছে। স্থানীয়ভাবে তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দুই মাস ধরে মানুষের ওপর পরীক্ষা করার পর সেটির ব্যবহারিক প্রয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট পুতিনের এক মেয়ের শরীরে টিকাটি প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এটা নিরাপদ কি না, সেটি যাচাই করতে হবে।

এর আগে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নানা ধরনের সন্দেহ প্রকাশ এবং প্রতিষ্ঠিত নিয়মকানুন মেনে চলার ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো ঘোষণা করেছেন, এই ভ্যাকসিন খুবই কার্যকর ও নিরাপদ প্রমাণিত হয়েছে। পুতিন বলেছেন, এই ভ্যাকসিন প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেছেন, কয়েক হাজার মানুষের ওপর এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল অব্যাহত থাকবে। পুতিন এই ভ্যাকসিনের গণ-উত্পাদন চান। তিনি জানান, তার এক কন্যা এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করেছেন এবং শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার পর তিনি পুরো সুস্থ বোধ করেছেন। পুতিন বলেন, ‘আমি আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে আমরা ঐ টিকার বিপুল উত্পাদন করতে পারব এবং তা খুবই প্রয়োজনীয়।’ টিকা আবিষ্কারকে গোটা দুনিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও ব্যাখ্যা করেন পুতিন।

রাশিয়ার গামালেয়া ইনস্টিটিউট ও রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে টিকা। রুশ বার্তা সংস্থা স্পুটনিক জানায়, গত ১৮ জুন ৩৮ জনের ওপর টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছিল। তাদের সবার মধ্যেই করোনাকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা জন্মায় বলেও রুশ বিজ্ঞানীদের দাবি। এই টিকা গবেষণায় অর্থ দিয়েছে রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ)। এর প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ জানিয়েছেন, টিকার ফেজ থ্রি ট্রায়াল শুরু হবে বুধবার (আজ) থেকে। তার দাবি, ঐ টিকা গোটা বিশ্বে সাড়া ফেলেছে। ইতিমধ্যে ২০টি দেশ ঐ টিকার মোট ১০০ কোটি ডোজের চাহিদার কথাও তাদের জানিয়েছে বলে দাবি দিমিত্রিয়েভের। তিনি বলেছেন, রাশিয়া বিভিন্ন বৈদেশিক অংশীদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পাঁচটি দেশে প্রতি বছরে ঐ টিকার মোট ৫০ কোটি ডোজ উত্পাদন করতেও প্রস্তুত। সেপ্টেম্বর থেকেই রাশিয়ায় ঐ টিকা তৈরি করা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। মিখাইল মুরাশকো জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধক্ষমতার জন্য দুই ধাপে টিকাটি নিতে হবে। তার মতে, এর ফলে করোনা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা শরীরে দুই বছর পর্যন্ত থাকবে। স্পুটনিক জানায়, আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ঐ টিকা জনসাধারণকে দেওয়া হতে পারে। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তারিক জাসারেভিক গতকাল জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘টিকার বিষয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। রাশিয়ার এই টিকা কতটা নিরাপদ সে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে।’

টিকার নাম ‘স্পুটনিক ভি’ কেন

বিশ্বে প্রথম করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের যে সম্ভাবনা রাশিয়ায় দেখা দিয়েছে, তাকে ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের দ্বারা বিশ্বের প্রথন স্যাটেলাইট উেক্ষপণের সঙ্গে তুলনা করেছেন রাশিয়ার অর্থ দপ্তরের প্রধান কিরিল দিমিত্রিভ। ১৯৫৭ সালে স্পুটনিক স্যাটেলাইটের উেক্ষপণের সময় তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে যে ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল, সেই মুহূর্ত আরো একবার ফিরে এসেছে রাশিয়ায়। তাই এই ভ্যাকসিনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্পুটনিক ভি’। ১৯৫৭ সালে মহাকাশ জয়ের লক্ষ্যে চরম প্রতিযোগিতা ছিল রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। সেই লড়াইয়ে এগিয়ে গিয়েছিল রাশিয়া। এবারও ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিযোগিতায় সেই যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেই এগিয়ে গেল রাশিয়া। ‘স্পুটনিক ভি’ নামকরণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকেও বার্তা দিতে চেয়েছে পুতিনের দেশ। —বিবিসি, রয়টার্স ও ডেইলি মেইল