কুমিল্লা-সিলেট জাতীয় মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণকৃত সরকারি ভূমি অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবৈধ স্থাপনা অপসারণের ব্যাপারে সওজ বিভাগের নোটিসেরও পাত্তা দিচ্ছে না দখলদাররা। এসব দখলদারের মধ্যে প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিও রয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে অবৈধ স্থাপনা অপসারণে ধীরগতির কারণে সরকারি ভূমি বেহাত হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়ে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সওজ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন।
জানা যায়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সওজ বিভাগের ভূমিতে আধাপাকা দোকানঘরসহ নানা অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এগুলো অপসারণ কিংবা উচ্ছেদ না হওয়ায় ঐ এলাকায় যানজটসহ জনচলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব দখলদারের মধ্যে একজন জনপ্রতিনিধির নামও রয়েছে এবং তিনি মহাসড়কের ব্যস্ততম এলাকার মূল্যবান সরকারি ভূমি দখলপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসায় পরিচালনা করছেন। এ অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য নোটিস দেওয়া হলেও তিনি তা আমলে নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ ওঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেবিদ্বার উপজেলা সদরের নানা পেশার লোকজন ও ছোট-খাটো একাধিক অবৈধ স্থাপনার মালিকরা বলেন, অবিলম্বে ঐ স্থাপনা উচ্ছেদ কিংবা অপসারণ করা হলে অপর দখলদাররা এমনিতেই স্থাপনা ভেঙে নিবে।
সওজ-কুমিল্লা গৌরীপুর কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাফরুল হায়দার বলেন, পৌর এলাকায় মহাসড়ক লাগোয়া দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম ওমানীর একটি প্রাইভেট হাসপাতাল রয়েছে। সড়কের জমিতে সেমিপাকা স্থাপনা নির্মাণ করার সময় বাধা দিলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। পরে ৭ দিনের মধ্যে ঐ স্থাপনা সরিয়ে নিতে চিঠি দেওয়া হলেও তিনি আমলে নিচ্ছেন না। স্থাপনাটি অপসারণ না করার ফলে মহাসড়কের ব্যস্ততম ঐ স্থানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে ও জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই স্থাপনাটি উচ্ছেদের বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে গত ১৩ জুলাই দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট পত্র দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম ওমানী বলেন, আমার মতো অনেকেই মহাসড়কের জায়গা দখল করে রেখেছে। প্রয়োজন হলে আমি সবার আগে স্থাপনা সরিয়ে নিব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিব হাসান বলেন, সওজ বিভাগের চিঠি পেয়েছি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
সওজ-কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, সড়ক বিভাগের ভূমি অবৈধভাবে যারা দখলে রেখেছে তাদের তালিকা করা হচ্ছে। সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ সরকারি ভূমি উদ্ধারের জন্য সহসাই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
