কুমিল্লায় মাদক মামলায় ‘নকল আসামি’ কারাগারে!

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২০, ২৩:১০

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত এবং বিভিন্ন থানার আটটি মাদক মামলায় অভিযুক্ত আসামি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গঙ্গানগর গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন। কিন্তু তার একটি মাদক মামলায় টাকার বিনিময়ে ‘নকল আসামি’ হয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে এখন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন জেলার বরুড়া উপজেলার বড় হাঙ্গিনী গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে হানিফ। গত সোমবার আদালতে আসামির জামিন শুনানির সময় বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে আদালত ঐ মামলার জামিন শুনানি মুলতবি করে দেয়। এ ঘটনায় আদালতপাড়ায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সরকারপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম সেলিম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত আসামি আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ২০১৯ সালের একটি মাদক মামলা রয়েছে। গত ৮ জুলাই এ মামলার প্রকৃত আসামি আনোয়ার হোসেনের পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ‘নকল আসামি’ হানিফ। কিন্তু ঐদিন বিষয়টি আদালতের নজরে আসেনি এবং জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে বিষয়টি সরকারপক্ষের আইনজীবী ও পিপি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম সেলিমের নজরে আসে। এতে সোমবার জেলা ও সেশন জজ আদালতে ঐ মামলার জামিন শুনানির সময় ঘটে বিপত্তি। পিপি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘গত কিছু দিন আগে একটি মাদক মামলায় আনোয়ার হোসেন পরিচয়ে একজন আসামি সদর কোর্টে আত্মসমর্পণ করেন। তখন আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। সোমবার জেলা ও সেশন জজ আদালতে আসামির জামিনের জন্য আবেদন করা হয় এবং শুনানির সময় আমি বিজ্ঞ আদালতকে জানিয়েছি যে, এ মামলার প্রকৃত আসামি আনোয়ার হোসেনের পরিবর্তে হানিফ নামের এক নকল আসামি জেলহাজতে আছে। আনোয়ার হোসেন টাকার বিনিময়ে হানিফকে আত্মসমর্পণ করিয়ে ছিলেন। জামিন শুনানির জন্য আদালত মামলাটি সদর কোর্টে পাঠায়।’ এদিকে বিষয়টি জানার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী মামলা পরিচালনা থেকে অব্যাহতি নেন।

এ মামলার বাদী কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তত্কালীন এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার বলেন, ‘২০১৯ সালের ১৩ জুলাই মাদক ব্যবসায়ী হেলাল ওরফে মুরগি হেলাল নামে একজনকে গাঁজাসহ আটক করি। পরে আটক হেলাল জানায়, তার সঙ্গে আনোয়ার হোসেন নামে আরেক মাদক ব্যবসায়ী ছিল। তখন কোতোয়ালি মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এই মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছে।’