পর্যটকে মুখরিত হালতি বিল

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২০, ২১:৪৮

সমুদ্রের ঢেউ খেলানো জলরাশি আর ভাসমান নৌকা মিলে এক অনন্য দৃশ্য। অন্যদিকে হাজারো মানুষের মিলন মেলা। নাটোর নলডাঙ্গা উপজেলার হালতি বিলের পাটুল ঘাট যেন আরেকটি মিনি কক্সবাজার। হালতি বিলের মধ্য দিয়ে নির্মিত রাস্তার কারণেই নৈসর্গিক সৌন্দর্য মানুষ উপভোগ করতে পারছেন। যখন পানি একটু কম থাকে তখন ঐ রাস্তায় হাঁটলে সমুদ্র সৈকতের আমেজ পাওয়া যায়। দুই পাশে পানি আর পানি। মাঝে কংক্রিটের ঢালাই করা রাস্তায় ছোট বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে। বর্ষাকালের হালতি বিল অথৈ সমুদ্রের মতো। রেল লাইনের ধারে ছোট ছোট গ্রামগুলো ডুবডুব প্রায়। এখানে প্রতিদিন পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া, নওগাঁসহ বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভ্রমণপ্রিয় মানুষের ঢল নামে। কেউ কেউ দল বেঁধে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নৌকায় চেপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিলের মধ্যে।  রাজশাহীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আজাদুল বারী ও পাবনার আবু হুরায়রা স্বপরিবারে এসেছেন হালতি বিল দেখতে। তারা বলেন, হালতি বিলের পরিবেশ যে এত নির্মল সুন্দর হবে ভাবিনি। পরিবারের সবাই খুব খুশি এখানে বেড়াতে আসতে পেরে। পত্রিকায় ও টিভিতে দেখে হালতি বিলে বেড়াতে আসা বগুড়ার ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম ও তার স্ত্রী রওনক জাহান বলেন, সত্যিই খুব সুন্দর, মিনি কক্সবাজার নাম দেওয়া স্বার্থক হয়েছে। স্থানীয় ভ্যানচালক কবির হোসেন খুব খুশি। কারণ তার আয় বেড়ে গেছে কয়েক গুন। নৌকার মাঝি আফজাল হোসেন এখন প্রতিদিন ভালো আয় করছেন। হাজার হাজার মানুষের ঢল নামায় এখানে হকারের ভিড়ও বেড়েছে। শুক্রবার এই ভিড় বেড়ে যায় কয়েক গুণ।  আগত পর্যটকদের সুবিধার জন্য টয়লেটসহ আরো কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গাড়ি রাখার গ্যারেজসহ বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট হয়েছে সম্প্রতি। বটবৃক্ষের গোড়া পাকা করে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য আগে দুটি স্পিডবোড চললেও এখন বন্ধ আছে। নাটোরের জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ শাহ রিয়াজ বলেন, হালতি বিলকে কেন্দ্র করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যটকের নিরাপত্তার জন্য পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।