বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের জন্য দায়ী ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কেন এতদিন বন্দরের গুদামে পড়েছিল? কে সেগুলোর মালিক? কেন কোনো দাবিদার নেই? এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। বিস্ফোরণের পর এক সপ্তাহের মাথায়ও কেউ ঐ রাসায়নিকের মালিকানা দাবি করেনি বা কাগজপত্র ঘেঁটেও মালিকের কোনো সন্ধান মেলেনি।
২০১৪ ?সালে মলদোভার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘রোসুস’ ঐ রাসায়নিক নিয়ে বৈরুত বন্দরে ভিড়ে। নৌপথে পণ্য পরিবহনের নিয়মানুযায়ী এভাবে সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো মারাত্মক দাহ্য রাসায়নিক পরিবহন অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই চালানের সঙ্গে জড়িত কয়েক জনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। কিন্তু তারা সবাই কার্গোটির প্রকৃত মালিক কে তা তারা জানেন না বলে জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি পণ্যবাহী জাহাজটির ক্যাপ্টেন, জর্জিয়ার সার উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান যারা কার্গোটি পাঠিয়েছিল এবং আফ্রিকার যে ফার্ম ঐ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের ক্রয়াদেশ দিয়েছিল তারা কেউই প্রকৃত মালিককে চেনেন না বলে দাবি করেছেন। আফ্রিকার ফার্মটির দাবি, তারা ক্রয়াদেশ দিলেও কখনোই ঐ রাসায়নিকের মূল্য পরিশোধ করেনি।
‘শিপিংয়ের’ নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে জর্জিয়া থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের চালানটি পণ্যবাহী জাহাজ ‘রোসুসে’ তোলা হয়। রাসায়নিকের চালানটি মোজাম্বিকের বিস্ফোরক উত্পাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানকে ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জাহাজটি ভূমধ্যসাগর পার হওয়ার আগেই তাদের ?কাছে একটি নির্দেশ আসে বলে জানান রোসুসের ক্যাপ্টেন এবং দুই ক্রু। রাশিয়ার ব্যবসায়ী ইগোর গ্রেচুশি্কন তাদের ঐ নির্দেশ দেন, যাকে তারা জাহাজটির মালিক বলে চিনতেন। ঐ নির্দেশে বলা হয়, বাড়তি কার্গো নেওয়ার জন্য তাদেরকে বৈরুত বন্দরে থামতে হবে। যাত্রাসূচিতে যেটা বলা ছিল না।
২০১৩ সালের নভেম্বরে বৈরুত বন্দরে পৌঁছায় রোসুস। কিন্তু ‘পোর্ট ফি’ দিতে না পারায় সেটি আইনি জটিলতার মুখে পড়ে। জাহাজটির দশাও বেহাল ছিল, সেটিতে ফুটো ধরা পড়েছিল। তারপর রোসুস আর কখনোই বৈরুত বন্দর ছাড়তে পারেনি। বৈরুত বন্দরের নথিপত্র অনুযায়ী, জাহাজটির বীমা কোম্পানি পানামা ভিত্তিক একটি ফার্মকে জাহাজটির আইনি মালিক দেখিয়ে সেটিকে বন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখার জন্য মামলা করে। সময়ে গড়াতে থাকে। এক সময় রাসায়নিক বোঝাই কার্গো জাহাজ থেকে নামিয়ে বন্দরে ঘাটের কাছেই একটি গুদামে রাখা হয়। আর বাজেয়াপ্ত খালি জাহাজটি ২০১৮ সাল থেকে যেখানে নোঙর করা ছিল সেখানেই সম্ভবত ডুবে গেছে।
বৈরুতের যে আইনি ফার্ম বীমা কোম্পানির হয়ে মামলা করেছিল, রয়টার্স থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। গ্রেচুশি্কনের সঙ্গেও যোগযোগ করা যায়নি। তাহলে কে ঐ ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কিনেছিল? এত খোঁজাখুঁজির পরও সেই উত্তর এখনো গভীর অন্ধকারে। জাহাজের রুশ ক্যাপ্টেন বোরিস প্রোকোশেভ বলেন, তিনি রোসুসের বীমার কাগজপত্র দেখেছিলেন। কিন্তু সেগুলোর সত্যতা যাচাই করেননি। অন্যদিকে, মোজাম্বিকের কোম্পানিটির দাবি, তারা ঐ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মালিক নয়। কারণ, পণ্য ডেলিভারি পাওয়ার পরই কেবল তারা মূল্য পরিশোধের চুক্তি করেছিল।
