যুুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনায় সামরিক মহড়া বাড়াচ্ছে চীন

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৭

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বৈরী সম্পর্ক বর্তমান সময়ে নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু সম্প্রতি তাইওয়ানে মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ আরো তুঙ্গে উঠেছে। এছাড়া ওয়াশিংটনের নানা সামরিক কর্মকাণ্ডও বেইজিংকে ভাবিয়ে তুলেছে। আর এ কারণে চীনও তার শক্তিমত্তা প্রদর্শনে পূর্ব এশিয়ায় সামরিক মহড়া চালানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

চীনের একজন থিংক ট্যাংক বলেছেন, তাদের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম দ্বীপের কাছে সামরিক মহড়া চালাতে পারে। গত মাসে দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরী অংশ নিলে চীনও একে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেয়নি। এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাগ্যুদ্ধও কম হয়নি। কিন্তু চলতি সপ্তাহে তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সফরে গেলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটে। কেননা চীন তাইওয়ানকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। এ ঘটনায় চীনের তরফ থেকে তীব্র প্রতিবাদও জানানো হয়েছে। চীন বলেছে, তাইওয়ানের সঙ্গে ব্যবসায়িক ফায়দা তথা অস্ত্র বিক্রি করতে যুক্তরাষ্ট্র যে অপতত্পরতা চালাচ্ছে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি পুরোপুরি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। বিগত চার দশকের মধ্যে মার্কিন কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই প্রথম তাইওয়ান সফর করলেন। সেসময় মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালেক্স আজার বলেন, তাইওয়ানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার বার্তা নিয়েই তিনি এখানে এসেছেন। বিষয়টির তীব্র প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাইওয়ানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে পূর্ব অঙ্গীকার ছিল তা পুরোপুরি ভঙ্গ করা হয়েছে।

১৯৭৯ সালে বেইজিংয়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকায় তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তা জোড়া লাগতে থাকে। আর সে কারণেই তাইওয়ানের দেওয়া অস্ত্র কেনার প্রস্তাবে সম্মতি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের কিছু পাস হতে হলে কংগ্রেসের হয়ে আসতে হয়।