ঘিওর উপজেলার পুরাতন ধলেশ্বরী, কালীগঙ্গা ও ইছামতিতে ট্রলারে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর পাড়ের বসত বাড়ি ও ২০০ থেকে ৩০০ হেক্টর ফসলিজমি হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিন ভোররাত ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুস্তা, নারচী, বেগুন নারচী, ঘিওর পূর্বপাড়া, বাইলজুরি, মাইলাগী, বৈইলট, সিংজুরি, আশাপুর, উত্তর তরা, নকিববাড়ী, কেল্লাই, জাবরা বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রামের নদীর পাড় ঘেষে ৩০-৪০টি ট্রলারে তোলা হয় বালু। কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মিলে একটি সিন্ডিকেট করে উপজেলায় বালু উত্তোলন ও ব্যবসা পরিচালনা করছে। সংঘবদ্ধ এ চক্রটির কারণে ক্ষমতাসীন দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। জীবনের ভয়ে কেউ কোনো প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।
নদীভাঙনের হুমকিতে থাকা এলাকাবাসী জানায়, একটি মহল বন্যা মৌসুমে বড় ট্রলারে দেশীয় ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে। প্রতি ট্রলার বালু উত্তোলনে চাঁদা দিতে হয় ২০০ টাকা। ট্রলার মালিকরা মাটি বিক্রি করে ১২০০-১৪০০ টাকা। গড়ে প্রতিদিন ৯০/১০০ ট্রলার বালু উত্তোলন করা হয়। অনেক ট্রলার মালিক নিজেরাই ট্রলারে মিনি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে ফসলি জমিসহ অনেক বাড়ি-ঘর বিলীন হয়ে যাবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তার জানান, ‘বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমি শুনেছি। গত কিছু দিন আগেও বালু উত্তোলনকারীদের জরিমানা করা হয়েছে। আবার দ্রুত মোবাইলকোর্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
