ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২০, ২২:৪৮

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার পুলিশের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আখাউড়া) আদালতে মামলা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে আখাউড়া উপজেলার পৌর শহরের মসজিদপাড়ার বাসিন্দা হারুন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নম্বর সিআর-৮৯/২০)। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদনটি দাখিলের জন্য আদালত আদেশ দেয়। অভিযুক্তরা হলেন আখাউড়া থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মুতিউর রহমান, এসআই হুমায়ুন, এএসআই খোরশেদ এবং কনস্টেবল প্রশান্ত ও সৈকত।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আখাউড়ার পৌর শহরের মসজিদপাড়ার বাসিন্দা হারুনের প্রতিবেশী হাসিনা বেগম (চিকুনী বেগম) এবং তার মেয়ে তানিয়া ও তানজিনার সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা একযোগে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছেন। হারুন প্রতিবেশী চিকুনীর মাদক ব্যবসায় বাধা দিলে চিকুনী ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের হারুনের পেছনে লেলিয়ে দেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মে গভীর রাতে অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য নাটকীয়ভাবে চিকুনী বেগমকে গ্রেপ্তার দেখায় এবং তার প্ররোচনায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুলিশ সদস্যরা হারুনের বাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশির নামে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। এ সময় ক্রসফায়ার ও হত্যার ভয় দেখিয়ে ঘরে থাকা নগদ ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। ঐ দিনই ভোররাত ৪টার দিকে পুনরায় ঐ পুলিশ সদস্যরা এসে হারুন ও তার স্ত্রীকে মিথ্যা মাদক মামলা ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ভয় দেখিয়ে ১ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে তাদের মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কোর্টে চালান দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়। ঐ সময় তারা ভয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি রফা করে। ঐ পাঁচ পুলিশ চলে যাওয়ার সময় বিষয়টি তাদের ওপরের কর্মকর্তাদের জানালে হারুনকে ক্রসফায়ার দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়।

মামলার বাদী হারুন মিয়া বলেন, ‘অভিযুক্তরা আমাকে বিভিন্ন সময়ে         ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা নিয়েছে। তাদের কারণে আজকে আমি বাড়িছাড়া। ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে অভিযোগ দিয়েছি।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত আমাদের অফিশিয়ালি কিছু জানানো হয়নি।