জঙ্গিদের বড় হামলা করার সক্ষমতা নেই

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২০, ০০:৩১

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির (জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) বড় ধরনের জঙ্গি হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা নেই। তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, তাদের সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। বর্তমানে নব্য জেএমবির সদস্যরা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতরা নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য। তারা হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার শরীফে আরেকটি হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পুলিশের কড়া নজরদারির কারণে তাদের মিশন ব্যর্থ হয়।

গতকাল বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি। সিটিটিসি টিমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। মনিরুল ইসলাম বলেন, পল্টনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মঙ্গলবার অপারেশন এলিগ্যান্ট বাইট চালিয়ে সিলেটের মিরাবাজার, টুকেরবাজার, দক্ষিণ সুরমাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নব্য জেএমবির পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান (২৬), সানাউল ইসলাম সাদি (২৮), রুবেল আহমেদ (২৮), আব্দুর রহিম জুয়েল (৩০) ও সায়েম মির্জা (২৪)। তাদের কাছ থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য। তারা কথিত আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য গত ঈদুল আজহার পূর্বে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে তারা গত ২৪ জুলাই রাজধানীর পল্টনে পুলিশ চেকপোস্টের পাশে এবং গত ৩১ জুলাই নওগাঁ জেলার সাপাহার এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দিরে বোমা হামলা করে।

এছাড়া তারা গত ২৩ জুলাই হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার শরীফে আরেকটি হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এর মধ্যে তারা পল্টন ও সাপাহারে বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হয়। কিন্তু সিলেটে পুলিশের কড়া নজরদারির কারণে তারা ব্যর্থ হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, নব্য জেএমবির শুরা সদস্য শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামানের নেতৃত্বে তারা সিলেটের শাপলাবাগের একটি বাসায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণের আড়ালে সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। তাদের মধ্যে নাইমুজ্জামান কফি শপে (বারিস্তা) কফি মেকার হিসেবে কাজ করে। তিনি ২০১৯ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করেন। তিনি ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সামরিক শাখার প্রধান প্রশিক্ষক এবং সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে তিনি সিলেটের শাপলাবাগের বাসাটি ভাড়া নেন। সানাউল ইসলাম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র।

জঙ্গিরা আরো জানান, রুবেল আহমেদ ২০১৬ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ব্লু-বার্ড সিলেট শাখা থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়। তিনি সিলেটে টুকেরবাজারে সার, বীজ ও কিটনাশকের ব্যবসা করতেন। আব্দুর রহিম জুয়েল রেন্ট-এ কারের ড্রাইভার হিসেবে কাজ করত। তার গাড়ি ব্যবহার করে তারা সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছিল। সায়েম মির্জা সিলেটের মদন মোহন কলেজের অনার্স শেষবর্ষের ছাত্র।

উল্লেখ্য, তারা গত ২৪ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর পল্টন মডেল থানার পুরানা পল্টন এলাকায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনাস্থল থেকে আইইডিতে ব্যবহূত ইলেকট্রিক টেপ, জিআই পাইপের কনটেইনার, সার্কিটের অংশ, তারের অংশ বিশেষ, লোহার তৈরি বিয়ারিং ও বল, নাইন ভোল্ট ব্যাটারির অংশ বিশেষ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডিএমপির পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে।