তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর সদস্যবহির্ভূত বহু কারখানা রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এ সব কারখানায় নিয়মনীতি মানার বালাই কম। অন্যদিকে তারা সরকারের দেওয়া সুযোগ সুবিধাও যথাযথভাবে নিতে পারে না। সার্বিকভাবে তৈরি পোশাক খাতকে টেকসই করার স্বার্থে এ ধরনের কারখানাকে শৃঙ্খলায় আনার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ লক্ষ্যে সদস্যবহির্ভূত কারখানাকে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় স্থায়ী ও স্বল্প ব্যয়ের অবকাঠামোর আওতায় নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা। অন্যথায় এ ধরনের কারখানায় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে রানা প্লাজার মতো পরিস্থিতি হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন তারা।
গতকাল বুধবার ম্যাপড ইন বাংলাদেশ (এমআইবি) আয়োজিত এক অনলাইন সেমিনারে (ওয়েবিনার) বক্তারা এসব কথা বলেন। করোনা পরিস্থিতিতে সদস্য বহির্ভূত কারখানার ওপর প্রভাব শীর্ষক ঐ ওয়েবিনারে অর্থনীতিবিদ, গার্মেন্টস মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে শ্রমিক প্রতিনিধি পারভীন সদস্যবহির্ভূত কারখানায় নিজের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এসব কারখানায় সরকার নির্ধারিত বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেয় না। অন্যদিকে কাজ করায় বেশি। ঠিকমতো নিরাপত্তার ব্যবস্থাও নেই।
তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর পরিচালক শরীফ জহির বলেন, সদস্যবহির্ভূত কারখানার মধ্যে অপেক্ষাকৃত ছোট ও মাঝারি কারখানার জন্য একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন করে দিতে হবে। যাতে কম ব্যয়ে তারা সেখানে গিয়ে কারখানা চালু করতে পারে। এটি নিশ্চিত করা গেলে অবৈধ সাব কন্ট্রাক্টিংও (ঠিকাকাজ) কমে যাবে। অন্যথায় আরেকটি রানা প্লাজার মতো ঘটনা ঘটলে বিপদে পড়ে যাব।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সদস্য না হওয়ায় এ ধরনের কারখানা সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সহযোগিতা থেকেও বঞ্চিত হয়। এ অবস্থায় প্রাথমিকভাবে তাদের সহযোগী সদস্য করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ম্যাপড ইন বাংলাদেশ এর হিসাবে, দেশে বর্তমানে সদস্যবহির্ভূত কারখানার সংখ্যা প্রায় ৫০০। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে দেখা যায়, গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে ৭৮টি কারখানা কোনো ধরনের কাজ করতে পারেনি। আর ৬০টি কারখানার হাতে পুরো কাজ ছিল।
এমআইবি-এর প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ হাসিবুদ্দিন হোসেনের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. রহিম বি তালুকদার। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড. অতনু রাব্বানি। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্র্যাক এর পরিচালক জেনিফা জব্বার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) যুগ্ম মহাপরিদর্শক কামরুল হাসান প্রমুখ।
