গল্প

রিতু ও কুমির

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২০, ১২:১৯

রিতুর বাৎসরিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ইশকুল ছুটি থাকবে বেশ কিছুদিন। ছুটির দিনগুলোতে কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবে তা-ই ভাবছে। অনেক জায়গা ঘুরতে হবে। তাই গতকাল বাবাকে ফোন করে রিতু। অফিস থেকে ছুটি নিতে বলে। বাবা শহরে থাকেন। রিতু ও তার মা গ্রামে। বাবা রাতে বাড়ি ফিরবেন। মেয়েকে নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন বলেই ছুটি নিয়েছেন। সকালে রিতুকে জানিয়ে দিয়েছেন সে কথা।

এখন শীতের সময়। শীতের দিনে রিতুদের পুকুরপাড়ে লোক সমাগম বাড়ে। নানান ধরনের পিঠেপুলির দোকান বসে। পুকুরপাড়ে বসে রাতের বেলা বাবার সাথে পিঠা খাবে। এই পুকুরের নানা ইতিহাস মানুষের মুখে মুখে। পুকুরের চারপাশে বড়ো-ছোট গাছ। পানিতে শাপলা ফুলের সমারোহ। পুকুরে বড়ো বড়ো মাছ। পুকুরপাড়ে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে মাছের অবাধ খেলাধুলা। আশপাশের দশ গ্রামে এই পুকুরের নাম। দূর গ্রাম থেকে লোকেরা হাতি এনে গোসল করাতো এই পুকুরে। মাঝে মাঝে গভীর রাতে জলপরিরা এই পুকুরের পাড়ে এসে নাচানাচি করত। বাবার কাছে শুনেছে, তার দাদা নাকি এই পুকুরে কুমির চাষ করতেন। কুমিরকে ডাকলে পানি থেকে ডাঙায় আসত। এখন আর তা নেই। দাদাও নেই। গল্পগুলো এখনো আছে মানুষের মুখে মুখে।

বাবার আসার অপেক্ষা করছে রিতু। রাত দশটা বেজে গেছে। হঠাৎ বিকেলের পর থেকেই আকাশের অবস্থা খারাপ। ঝড় হতে পারে। হালকা বাতাসও বইছে। রিতু জানালার ফাঁক দিয়ে বিজলির আলো দেখে। তার খুব ভালো লাগে ঝড়ের রাত। তাছাড়া ঝড়ের দিনে বাবা বাইরে যেতে পারে না। অনেক গল্প শুনতে পারে বাবার কাছে। ঘুমও ভালো হয়। আজও সে গল্প শুনবে। তবে একটু খারাপ লাগছে। বাবার সাথে পিঠেপুলি খেতে পারবে না ভেবে। মা আবার বলছেন, এই ঝড়ের কারণে শীত কমে যাবে। এসব ভাবতে ভাবতেই তার বাবা চলে এলেন।

বাবাকে দেখে রিতুর খুশির সীমা নেই। বাবা পোশাক বদলিয়ে হাতমুখ ধুয়ে আসেন। রাতের খাবার শেষ করে দাঁত ব্রাশ করে বিছানায় যান। রিতু শুয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল, গল্প বলো বাবা। বাবা মেয়ের কপালে চুমু দিয়ে মাথায় হাত বুলালেন। তারপরে গল্প বলতে শুরু করেন। একটু পরেই রিতু ঘুমিয়ে পড়ে। সে ঘুমে দেখে, সে দাদুসহ কুমিরকে খাবার দিচ্ছে। কত কত কুমির। রিতুকে পিঠে নিয়ে তারা পানিতে লাফালাফি করছে। দূর থেকে খাবার ছুড়ে দিচ্ছেন দাদু। কুমির লাফ দিয়ে তা গিলে ফেলে। দাদু হাসতে হাসতে বলছেন, দূরে যাও। একটা সময় পানি থেকে জলপরি ভেসে ওঠে। পরিরা রিতুকে নিয়ে সারা পুকুরে কুমিরের পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ায়। রিতুর কাছে অনেক গল্প শুনতে চায়। তার খেলার সাথীদের নামও জানতে চায়। তার কী করতে মন চায়, তা-ও। পরিরা জলের ভেতর কীভাবে থাকে তা রিতুকে বলে। জলের ভেতর তাদের দম আটকায় কি না তা রিতু জানতে চায়। আজ রিতু খুব খুশি। রিতুর খুশিতে মাছেরাও লাফাতে থাকে।

হঠাৎ জানালার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো পড়ে রিতুর চোখে। ঘুম ভেঙে যায় তার। সে সবকিছু মনে করতে থাকে। খুশিতে তার চারদিক যেন আলোকিত হয়ে গেছে। বিছানা থেকে নেমে দৌড়ে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে একের পর এক গল্প বলতে থাকে।