দাবি পূরণ হলে টিকতে পারবে স্টার সিনেপ্লেক্স

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২০, ১৯:৩০

দেশের সিনেমা হলে অবস্থা অনেকবছর ধরে খারাপের দিকে যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সিনেমা হলগুলোর পরিবেশ যেমন পরিবর্তন হয়নি তেমনি দর্শকরাও হলবিমুখ হওয়া শুরু করে। কারণ দেশের বর্তমানে সিনেমার সংখ্যা ও অবস্থা বিবেচনা করে হল মালিকরা নিজেদের ব্যবসায় লোকসান গুনতে নারাজ। হল নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দাবি উঠে আসে দেশের হল মালিক সংগঠন থেকে। তবে এখনো দেশে নতুন সিনেমা হল নির্মাণ ও চালিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা সফল হয়নি। যে কারণে প্রায় হল বন্ধ হওয়া খবর পাওয়া যায় এখনো। দেশের বর্তমানে এমন অনেক জেলা রয়েছে যেখানে একটি সিনেমা হল নেই। এমন পরিস্থিতে অন্তত নগরবাসীর জন্য স্বস্তির জায়গা মাল্টিপ্লেক্সগুলো। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কয়েক মাস বন্ধ আছে দেশের সিনেমা হলগুলো। যার মধ্যে মাল্টিপ্লেক্সগুলোর প্রতিমাসে গুনতে হচ্ছে বড় পরিমাণে লোকসান। এমন অবস্থায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে এখানেও। এমন অবস্থায় সরকার সহায়তা নিয়ে এগিয়ে না এলে বন্ধ হয়ে যাবে দেশের জনপ্রিয় সিনেমা থিয়েটার স্টার সিনেপ্লেক্স। ১২ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দিলেন স্টার সিনেপ্লেক্সের চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান রুহেল। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি সরকারের কাছে ৫টিসহ মোট ৭টি দাবি তুলে ধরেছেন। যেগুলো পূরণ হলে স্টার সিনেপ্লেক্স এদেশে সিনেমা থিয়েটারের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে। এছাড়াও দুটি দাবি তিনি উপস্থাপন করেছেন। স্টার সিনেপ্লেক্স আছে এমন ৩টি শপিংমল কর্তৃপক্ষের কাছে এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির কাছে। শপিংমল কর্তৃপক্ষের কাছে রুহেল বলেন, ‘করোনাকালীন পরিস্থিতে স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রতিটি শাখা বিভিন্ন শপিংমলে ভাড়ায় পরিচালিত হয়। এই করোনাকালীন সময়ে শপিংমল কর্তৃপক্ষের কাছে ভাড়া মওকুফ করা ও অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার অনুরোধ করছি।’ সর্বশেষ প্রযোজক সমিতির কাছে অনুরোধ করে বলেন, ‘সেন্সর পাওয়া সিনেমাগুলো মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু সিনেমা হল খুললেই হবে না নতুন ছবি মুক্তি না পেলে দর্শক হলে আসবে না। রুহেল আরও বলেন, ‘আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হলগুলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চমত্কার উদাহরণ হতে পারে। নির্ধারিত আসনের জন্য অল্পসংখ্যক লোক টিকেটের বিনিময়ে সিনেমা দেখে। অন্যান্য জনবহুল স্থানের তুলনায় এখানে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মানুষের বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব বলে আমরা মনে করি। স্টার সিনেপ্লেক্স বরাবরই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন। এখানকার কর্মীসহ আগত সবার জন্য বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার, হলের আসনগুলো নিয়মিত জীবাণুমুক্তকরণসহ স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার সব ধরনের সুব্যবস্থা রয়েছে। লক্ষ্যণীয় যে চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, ইতালি, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এরইমধ্যে সিনেমা হল চালু করা হয়েছে।’ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পের মেরুদণ্ড বলা যায় সিনেমা হলকে। হল না বাঁচলে চলচ্চিত্র বাঁচবে না। তাই সরকারের কাছে আমাদের আবেদন অনতিবিলম্বে দেশের সিনেমা হল খুলে দেওয়া হোক। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সিনেমা হল পরিচালনায় ব্যয় বেড়ে যাবে, তাই টিকেট থেকে ভ্যাট, ট্যাক্স মওকুফ করা হোক।’

দাবিগুলো...

n নগরবাসীর বিনোদনের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনতিবিলম্বে সিনেমা হলসমূহ খুলে দেওয়া হোক।

 

n জরুরি আর্থিক সহায়তা কিংবা প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা।

 

n টিকেটের ওপর সকল প্রকার মুসক ও কর মওকুফের সুযোগ প্রদান।

 

n সুদবিহীন ঋণ প্রদানের অনুমোদন।

 

n উপমহাদেশীয় ভাষার চলচ্চিত্রসমূহ শর্তহীনভাবে আমদানির অনুমতি প্রদান।

 

n শপিংমল কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ অনুরোধ, করোনাকালীন পরিস্থিতে স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রতিটি শাখা বিভিন্ন শপিংমলে ভাড়ায় পরিচালিত হয়। এই করোনাকালীন সময়ে শপিংমল কর্তৃপক্ষের কাছে ভাড়া মওকুফ করা ও অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার অনুরোধ করছি।

 

n প্রযোজক সমিতির কাছে অনুরোধ, সেন্সর পাওয়া সিনেমাগুলো মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। শুধুমাত্র সিনেমা হল খুললেই হবে না নতুন ছবি মুক্তি না পেলে দর্শক হলে আসবে না।