কাতার বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান কাপ ফুটবলের এশিয়া অঞ্চলের খেলাগুলো স্থগিত হওয়ায় ফুটবলের পরিকল্পনাগুলো এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। খেলোয়াড়রা গতকাল সকাল হতে সারাহ রিসোর্টের ক্যাম্প ছেড়ে গিয়েছেন। এশিয়ার দেশ কোভিড-১৯ সংক্রান্ত পরিস্থিতির কারণে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের বিধিনিষেধসহ ফ্লাইট জটিলতায় জয়েন্ট কোয়ালিফিকেশন রাউন্ড-২ এর খেলা আগামী অক্টোবর নভেম্বরের পরিবর্তের ২০২১ সালে আয়োজনের কথা জানিয়েছে ফিফা। ন্যাশনাল টিমস কমিটির কো-চেয়ারম্যান তাবিথ আওয়াল জানিয়েছেন, তারা অপেক্ষায় ছিলেন এএফসির খেলাও স্থগিত হয়ে যায় কি না। সেটি হচ্ছে না। তাই এখন জাতীয় দল নিয়েই চিন্তা করতে চান তারা। তাবিথ বললেন, ‘ফুটবল ক্লিনিক করার কথা ভাবছি। কোচকে এনে ১০ জন, ১০ জন করে ক্লিনিক করার কথাও মাথায় রাখা হয়েছে। খেলোয়াড়দের ছেড়ে দিলেই তো চলবে না। ব্যস্ত রাখতে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করার কথা ভাবছি।’ বাফুফের এই সহসভাপতি জানিয়েছেন, তারা প্রতিদিনই ফুটবল আলোচনায় বসছেন।
কোভিড-১৯-এর কারণে ফিফার মতো প্রতিষ্ঠান এশিয়া অঞ্চলে ফুটবলের কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করতে পারছে না। সেখানে খুব সাহস করে বড় কিছুও করার সুযোগ পাচ্ছে না বাফুফে। তাবিথ আওয়াল জানিয়েছেন, তারা প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য ১০-১২টি দেশকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কোন দেশগুলো সাড়া দেয়, সেটা দেখার ব্যাপার রয়েছে। তাবিথ বললেন, ‘তাই বলে কাতার যদি খেলতে চায় আমরা সেখানে যাবো না।’ তাবিথের কথা একটাই যেভাবেই হোক ফুটবলারদের ব্যস্ত রাখতেই হাবে। এএফসি কাপ ফুটবলে বসুন্ধরা কিংসের খেলা হবে বলে এই অন্ধকারেও খানিকটা আশার আলো দেখছেন সাবেক ফুটবলার তাবিথ আওয়াল। তিনি বলেন, ‘বসুন্ধরার খেলা হবে বলে সেখানে জাতীয় দলের কিছু ফুটবলার অনুশীলনে থাকবেন। আর বাকি যারা রয়েছেন, তাদের নিয়ে সমন্বয় করে আলাদা একটা পরিকল্পনা করা আমার মনে হয় হলে চাকাটা সচল রাখা যাবে।’
বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে ফিফার সিদ্ধান্তে হতাশ হলেও আবার অন্য দিকে সঠিক মনে করছেন তিনি। গতকাল ইংল্যান্ড হতে বাফুফের সঙ্গে কথা বলেছেন জেমি ডে। কোচ বলেছেন, ‘খেলাগুলো বাতিল করা হয়েছে স্বভাবতই এই সিদ্ধান্তে কিছুটা হতাশ হয়েছি। তবে আমি মনে করি এটি সঠিক সিদ্ধান্ত। খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা সবার আগে। তবে দিন-তারিখ নির্ধারণ হওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রস্তুতি জন্য ভালো সময় পাওয়া যাবে।’
