প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে তাইওয়ান

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২০, ২১:৪২

তাইওয়ানকে নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা গত কয়েক দিনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই শিরোনামে পরিণত হয়। মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক তাইওয়ান সফর এই উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। অবস্থার কোনো কূলকিনারা না পেয়ে চীনও অনেকটা শক্ত অবস্থানে চলে যায়। বেইজিং ঘোষণা দেয় যে, তারা পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনে সামরিক মহড়া বাড়াবে। এ ঘোষণার মধ্যে তাইওয়ানের কাছে সামরিক মহড়া চালানোরও বিশদ বিবরণ প্রকাশ করে তারা। এ অবস্থায় তাইওয়ানও অনেকটা নড়েচড়ে বসেছে। গতকাল তারা ঘোষণা দেয় যে, চীনকে মোকাবিলায় তারা প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বাড়াবে।   

তাইওয়ানের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, আগামী বছরে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় ১৪০ কোটি ডলার বাড়ানো হবে। কেননা চীন যেভাবে ধীরে ধীরে তাদের কাছে এসে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে এতে করে তাদের এই পথে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। মন্ত্রিসভায় সামরিক খাতে আগামী বছর ৪৫৩.৪ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলারের প্রস্তাব করা হয়, যা বর্তমানে রয়েছে ৪১১.৩ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার। সে হিসাবে প্রায় ১০ শতাংশের বেশি এই খাতে ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, এই খাতে ধীরে ধীরে বাজেট বাড়ানোর আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—আমরা এর মাধ্যমে বিভিন্ন সামরিক নির্মাণ ও যুদ্ধ প্রস্তুতিমূলক কার্যাদি সম্পন্ন করতে চাই। সেইসঙ্গে এটি আমাদের জাতীয় সুরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চীন যেভাবে নেতিবাচক ভূমিকা পালন করছে তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। একটি বৃহত্ দেশ এভাবে কোনো কর্মকাণ্ড চালাতে পারে না। বিশেষ করে গত সোমবার চীনা জঙ্গি বিমানের তাইওয়ান প্রণালির স্পর্শকাতর মধ্যম লাইন অতিক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড তাইওয়ানের শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বিরাট হুমকিস্বরূপ। 

বাজেট ঘোষণার তিন ঘণ্টা পর চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ইস্টার্ন থিয়েটারের কমান্ড জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানে আমাদের যে জঙ্গি বিমানগুলো তাদের আকাশের মধ্যম লাইন অতিক্রম করেছিল তা আর কিছুই নয়, মার্কিন ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার সফরের পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছে।