পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, কোভিড হোক না হোক উন্নয়ন প্রকল্পে অপচয় কমাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মাঝেমধ্যেই এসব নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করছেন। এক জন প্রকল্প পরিচালকের কাছে চারটা, পাঁচটা, ছয়টা প্রকল্প। ১০টা প্রকল্পও পাওয়া গেছে। এটা আমাদের নিয়মবিরোধী। তারপরও করে যাচ্ছি এটা।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ ৩০ জন সচিব অংশ নেন। বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল ভাবে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি জানান, উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক বা বাড়াবাড়ি খরচসহ বেশকিছু বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকে তারা স্বীকার করেছেন, প্রকল্পে কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক খরচের কথা। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। মন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাসের মধ্যে অনলাইন জুমে মিটিং হয়েছে, তাহলে আবার শিঙাড়ার খরচ কেন। তারা একমত হয়েছেন যে, এসব বিষয় আর মেনে নেওয়া যাবে না। এগুলো শোধরানোর জন্য এ বছর থেকেই সবাই একসঙ্গে কাজ করবেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এর বাস্তবায়ন দেখা যাবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বারবার সংশোধন হচ্ছে। এ বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর নজরেও আছে। তিনি প্রায়ই প্রশ্ন করেন, এত রিভিশন কেন করেন। প্রথমে বললেন দুই-তিন বছরের প্রকল্প। তারপর এক বছরের মাথায় এসে বলেন, চার বছর লাগবে। আরেক বছর পর আবার এসে বললেন ব্যয় বাড়াতে হবে। তিনি মনে করেন যে, এগুলো শৃঙ্খলাবিরোধী। এটা আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সভায় স্বাস্থ্য সচিব বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে টাস্কফোর্সের মাধ্যেমে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে তদারকি করবেন। কৃষি সচিব বলেছেন তারা একটি কমিটি করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চোরকে চুরির আইনেই ধরতে হবে। আমাদের সরকার গণতান্ত্রিক সরকার, স্বৈরশাসক নন। দেশে আইন রয়েছে, আইনের মাধ্যমেই তাদের ধরা হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই স্বীকার করি যে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি আছে। ভুল হোক বা হিউম্যান এরর হোক, হিউম্যান এরর হিসেবে নেব; কিন্তু রিপিটেড হিউম্যান এরর তো গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকল্প পরিচালকরা এলাকায় থাকেন না। সুনামগঞ্জের প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক ঢাকায় থাকেন, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এটা আগেও আলোচনা করেছি। আবার আলোচনা করছি। বারবার করে এটাকে আমরা শোধরাবার চেষ্টা করছি। তবে কাউকে ধরার জন্য আমরা এখানে বসিনি। আমরা সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করব।
করোনার মধ্যেও গত অর্থবছর ৫ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে কীভাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির প্রাণ হলো কৃষি। কোভিডের কারণে কৃষিতে তেমন ক্ষতি হয়নি। আমাদের অর্থনীতির আরেকটি পিলার হলো রেমিট্যান্স। কেউ বলেছে রেমিট্যান্সে ধস নামবে কিন্তু ধস নামেনি আরো পাহাড় হয়েছে।
প্রকল্পে গাড়ি কেনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এগুলো প্রয়োজনীয় উপাদান। কোদাল, বালতির মতো এখন গাড়িও প্রয়োজনীয় উপাদান। আজ থেকে ১০০ বছর আগে ডিসিরাও সাইকেলে চড়তেন। সময় বদলেছে, এখন উপজেলা পর্যায়ে গাড়ি দেওয়া হচ্ছে। গাড়ি কেনার বিষয়টি বিলাসি হিসেবে চিন্তা করলে হবে না। করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, সেসময় জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছিল তাই বেশি খরচ ধরা হয়েছিল। পরে সংশোধন করা হবে।
