ট্রাম্প দেশকে বিভক্ত করেছেন

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২০, ২২:৪৯

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন এবং তার সদ্য ঘোষিত রানিংমেট কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন অযোগ্য নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিভক্ত করে রেখেছেন। তারা দুজনই তাদের নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম অনুষ্ঠানটি এক সঙ্গে করেন। এর আগে বাইডেন তার রানিংমেট হিসেবে হ্যারিসকে প্রথম সামনে আনেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের বক্তব্যের জবাবে বলেছেন, যে হ্যারিস তার নিজের নির্বাচনী লড়াইয়ে নূড়ি পাথরের মতো নিচে গড়িয়ে পড়ে যাবেন। বাইডেন নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান ট্রাম্পের মুখোমুখি হবেন। খবর বিবিসির

বাইডেন কী বলেছেন?

ডেলাওয়ারের উইলমিংটনে বুধবারের এই নির্বাচনী প্রচারণা অনুষ্ঠানটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল না, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ৭৭ বছর বয়সি বাইডেন। উভয় প্রার্থী মুখে মাস্ক পরে মঞ্চে উপস্থিত হন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মাস্ক পরা এক দল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তারা। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বলছে, দুজন প্রার্থীকে এক ঝলক দেখতে প্রচারণা অনুষ্ঠান শুরুর আগে হালকা বৃষ্টির মধ্যে প্রায় ৭৫ জন লোক বাইরে জড়ো হয়েছিল। যদিও এই ভিড়ে থাকা কয়েক জন বাইডেনের সমালোচক ছিলেন।

অ্যালেক্সিস আই ডুপন্ট হাইস্কুলের জিমনেশিয়াম থেকে বক্তব্য রাখার সময় বাইডেন বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর হ্যারিস হলেন প্রথম কোনো বর্ণের নারী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান একটি দলের হয়ে প্রেসিডেন্টের রানিংমেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বাইডেন বলেন, আমরা এই নভেম্বরে যাকে বেছে নেব, তিনি নির্ধারণ করবেন আমেরিকার দীর্ঘ সময়ের ভবিষ্যত্।

ট্রাম্প ইতিমধ্যে এসব বক্তব্যের জবাব দিতে শুরু করেছেন। কমলাকে জঘন্য বলে সম্বোধন করেছেন এবং কমলা তার নিয়োগকারীর দৃষ্টিতে কেমন, সেটা নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে বাইডেন বলেন, এটি অবাক হওয়ার কিছু নয়, কারণ আমেরিকার ইতিহাসে যে কোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে ট্রাম্প সবচেয়ে বেশি ঘ্যানঘ্যান করেন। একজন নারী অথবা কোনো একটি বোর্ড জুড়ে থাকা শক্তিশালী নারীদের নিয়ে যে ট্রাম্পের সমস্যা আছে, এতে কি কেউ অবাক হয়েছেন? তিনি ট্রাম্পের করোনা ভাইরাস মহামারি মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তন, বেকারত্বের হার সামাল দেওয়ার ব্যর্থতা এবং তার বর্ণবাদী বক্তব্য ও বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে আক্রমণ করেন।

হ্যারিস যা বলেছেন

বাইডেনের পর হ্যারিস মঞ্চে এসে বলেন, আমি কাজ করতে প্রস্তুত আছি। ৫৫ বছর বয়সি সাবেক এই আইনপ্রণেতা সাংবাদিকদের বলেন, আমেরিকার সঙ্গে কী হবে, সেটা নির্ধারণ হতে যাচ্ছে। আমাদের অর্থনীতি, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের শিশুরা, আমরা যে ধরনের দেশে বাস করছি তার সবকিছুই এর সঙ্গে যুক্ত। ভারতীয় ও জ্যামাইকান অভিবাসীর সন্তান হ্যারিস আরো বলেন, আমেরিকা সুযোগ্য নেতৃত্বের জন্য হাহাকার করছে, অথচ আমাদের এমন একজন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আছেন তিনি শুধু নিজের চিন্তায় আছেন। যারা তাকে নির্বাচিত করেছেন তাদের দিকে খেয়াল নেই। হ্যারিস আরো বলেন, তিনি (ট্রাম্প), বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনের কাছ থেকে ইতিহাসের দীর্ঘতম অর্থনৈতিক প্রসার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। এরপর তিনি, তার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমস্ত কিছু সরাসরি মাটিতে ছুঁড়ে নষ্ট করেছেন। হ্যারিস বলেন, এমনটা তখনই হয়, যখন আমরা এমন একজনকে বেছে নিই, যিনি এই কাজের জন্য উপযুক্ত নন। আমাদের দেশকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে আমাদের খ্যাতিও বিনষ্ট হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

বুধবার হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, কমলা হ্যারিস যখন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হন তখন তিনি বাইডেনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। আমি দেখেছি তার জরিপের সংখ্যাগুলো বুম, বুম, বুম, করে নামতে নামতে প্রায় শূন্যে পৌঁছে যায় এবং তিনি রাগে পাগল হয়ে যান। তিনি (কমলা) বাইডেনের সম্পর্কে ভয়ংকর সব কথা বলেছেন। এমনকি একজন নারী যখন বাইডেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তখন তার কথাও হ্যারিস বিশ্বাস করেছিলেন বলে আমার ধারণা। এখন সেই তিনিই বাইডেনের রানিংমেট হয়ে গেলেন। আবার বাইডেন সম্পর্কে ভালো ভালো কথাও বলছেন। বাইডেনের বিরুদ্ধে এর আগে কয়েক জন নারী অযাচিত ব্যবহার যেমন স্পর্শ এবং চুম্বন করার অভিযোগ তুলেছিলেন।