জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ডিএমপির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২০, ০০:২৭

আগামী ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করা হবে। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ধানমিন্ড ৩২ নম্বর এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

ডিএমপির নেওয়া পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে হ্যান্ড মেটাল ডিটেকটর দিয়ে তল্লাশি করে আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। একইভাবে বনানী কবরস্থানেও আর্চওয়ে, চেকপোস্ট থাকবে এবং সবাইকে তল্লাশির মাধ্যমে প্রবেশ করতে হবে। আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তল্লাশি, ব্লক রেইড, চেকপোস্টের কার্যক্রম থাকবে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দল থাকবে।

গমনাগমনের ক্ষেত্রে ভিভিআইপি, ভিআইপি, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ (ধানমন্ডি ২৭ নম্বর ক্রসিং), মিরপুর রোড (মেট্রো শপিং মল মোড়), ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ এবং একই পথে প্রস্থান করবেন। বিভিন্ন দল, প্রতিষ্ঠান ও সর্বসাধারণের একমুখী গমনাগমনের নিমিত্তে রাসেল স্কয়ার থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে বের হবে। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ও বনানী কবরস্থান এলাকায় আগতদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখা হয়েছে। মিরপুর রোড ও ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের চতুর্দিকে মোটরসাইকেল পার্কিং করা যাবে না।

ধানমন্ডি ৩২ ও বনানী কবরস্থানকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানস্থল ও তার আশপাশের এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। ভেন্যুকেন্দ্রিক অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোলরুম থেকে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি মনিটরিং করা হবে। পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসা জনসাধারণকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরকেন্দ্রিক মাইকিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

ধানমন্ডি ৩২ ও বনানী কবরস্থানকেন্দ্রিক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। সেই সঙ্গে ডগ স্কোয়াড ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট দিয়ে সুইপিং করানো হবে। ধানমন্ডি লেকে মোতায়েন থাকবে নৌ পুলিশের টহল। ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ধানমন্ডি ৩২ কেন্দ্রিক নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে ফায়ার টেন্ডার ও অ্যাম্বুলেন্স। প্রাথমিক চিকিত্সার জন্য দুই ভেন্যুতেই থাকবে মেডিক্যাল টিম। নিরাপত্তার স্বার্থে ১৪ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ধানমন্ডি ৩২ ও বনানী কবরস্থানসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত হোটেল, গেস্ট হাউজ বন্ধ থাকবে এবং মেসগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট, গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার বিষয়ে অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কোনো অপপ্রচার কঠোরভাবে নজরদারি করাসহ আইনের আওতায় আনা হবে।