শুদ্ধিকরণ
বিরামচিহ্ন বা যতিচিহ্ন বা ছেদচিহ্ন-এর ব্যবহার
হাইফেন (-)
ফাঁক (space) : আগে ও পরে ফাঁক থাকবে না।
ব্যবহারের নিয়ম :
১. হাইফেন চিহ্ন দিয়ে পাশাপাশি দুই বা ততোধিক শব্দকে জোড়া লাগানো হয়।
যেমন : উত্তর-পশ্চিম কোনে ঝড়ের কালো মেঘ দেখা যাচ্ছে।
২. সমাসবদ্ধ পদের সব সমস্যমান পদের অর্থ প্রাধান্য পেলে, তাদের মধ্যে হাইফেন বসে।
যেমন : মা-বাবা, ভাই-বোন ইত্যাদি।
৩. বিশেষ্য বা সর্বনামের আগে ‘যে’ বসে ঐ বিশেষ্য বা সর্বনামকে নির্দিষ্টভাবে বোঝালেও মাঝখানে হাইফেন ব্যবহার করা যেতে পারে।
যেমন : তুমি যে-স্বপ্ন দেখছ, তা পূরণ হবেই।
অনির্দিষ্টতা বোঝাতেও ক্ষেত্র বিশেষে হাইফেন ব্যবহূত হয়।
যেমন : যে-কোনো ৫টি প্রশ্নের উত্তর দাও।
৪. অর্থ পরস্ফুিট করার জন্য ক্রিয়াপদের পূর্বে ‘না’ অব্যয়ের সাথে হাইফেন বসে।
যেমন : না-বলা কথা।
৫. বাক্যে ‘না’ যখন নেতিবাচক অর্থ প্রকাশ না করে, অনুজ্ঞাসূচক অর্থ প্রকাশ করে, তখন হাইফেন ব্যবহূত হতে পারে।
যেমন : আমটি খান-না।
৬. শব্দের শুরু কিংবা শেষাংশের অসম্পূর্ণতা বোঝাতে হাইফেন ব্যবহূত হয়।
যেমন : ‘-তা’, ‘-এর’, ‘দু-’ ইত্যাদি।
৭. ক্ষেত্রবিশেষে অর্থ স্পষ্ট করার জন্য কিছু শব্দ বা শব্দাংশের সাথে হাইফেন যুক্ত করা হয়।
যেমন : অপরাধ যে-ই করুক না কেন, তাকে শাস্তি পেতে হবে।
অশুদ্ধ : টাকা - পয়সা নিয়ে অহংকার করতে নেই।
শুদ্ধ : টাকা-পয়সা নিয়ে অহংকার করতে নেই।
সূত্র :
জামিল চৌধুরী (সংকলক ও সম্পাদনা), আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, ২০১৯
মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড।
