এই সেই রাস্তা যেখান দিয়ে তুমি অনেক হেঁটেছ
এখানে একটু দাঁড়াও, দেখো এই বাড়িটাকে।
এ বাড়ি আকাশছোঁয়া নয়, বহুতলও হয়।
কিন্তু ইতিহাসে এ এক বিরাট বাড়ি!
ইতিহাস এখানে এসে জানু নত হয়ে বিপ্লব বুনেছিল
কারণ এখানে তাঁর আবাস ছিল।
এর একটি কক্ষে বসে তিনি চিন্তার জগতে ডুবতেন
নিদ্রা যেতেন, এর অলিন্দে সময় কাটাতেন নিভৃতে।
অনুগামী আর ভক্তদের কাছে এ বাড়িতেই তিনি
ভাগ করতেন তাঁর মতপথের ভাবনা।
এই সেই বৈঠকখানা যেখানে তিনি
পাইপের ধোঁয়া তুলতে তুলতে তাঁর ভালোবাসা-সততা
আর ক্ষমার বাণী ছড়িয়ে দিতেন।
তার সেই পাইপ আজো আছে, কেবল তিনি নেই।
ধানমণ্ডির শান্ত সমাহিত জলধারায় ওপর দিয়ে
আজো সূর্য উদিত হয়, অস্ত যায়
কেবল তাঁকে আর কোথাও দেখা যায় না।
এই সেই চশমা, যার ভেতর দিয়ে তিনি
গ্রীষ্মের দুপুরে ধ্যানমগ্ন হয়ে
নির্নিমেষ হ্রদের জলে তাকিয়ে থাকতেন
খণ্ডিত বিখণ্ডিত সূর্যছায়ায়।
শত-সহস্র অতিথিকে প্রতিদিন প্রতিক্ষণ—উদয়াস্ত তিনি
এ বাড়িতেই বাঁধতেন হূদয়ের সাঁকোতে।
তাঁর উপস্থিতিতে এক অপূর্ব জীবনোত্ফুল্লের ফল্গুধারা
ছড়িয়ে পড়ত কন্যা-জায়া-পুত্রদের মাঝে—
এই বৈঠকখানায়, শয়নকক্ষে, অলিন্দের প্রতিটি কোণে।
তাঁর ললিত মুখের ভাষায় যে কারো বিষাদ-বেদনা
উধাও হয়ে যেত নিমিষে।
এই পুণ্য পবিত্র বাড়ি পূর্ণতা লাভ করত
তার ঠোঁটের কোণে প্রকাশিত অপার্থিব হাসিতে।
বাঙালির ইতিহাস এখানে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে
মহাকালের অন্তিম অবধি।
Road Number Thirty Two কবিতার ইংরেজি অনুবাদ : তাপস কুমার দত্ত
বরেন চক্রবর্তীর কাব্য A Nation Confesses (অবসর, ২০১৪) থেকে অনূদিত
স্কেচ :নাজিব তারেক
