মরিচের নাম চাবাই কোপাই

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২০, ২১:২৫

ইন্দোনেশিয়ার মরিচের একটি জাতের নাম ‘চাবাই কোপাই’। কুমিল্লায় চাবাই কোপাইয়ের চাষ বাড়ছে। কুমিল্লা নগরীর বেশ কয়েকটি ভবনের ছাদে আর বারান্দায় শৌখিন বাগানিরা এ মরিচের চাষ করছেন। দেখতে অন্যরকম এই মরিচ ৮-১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। তবে আমাদের দেশি মরিচের চেয়ে ঝাল কম। এই মরিচ দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উত্সুক চাষিরা ছুটে আসছেন বলে জানান শৌখিন বাগানি ডা. আবু নাঈম।   জানা যায়, দেহের ভিটামিন সি ও বিভিন্ন উপাদানের ঘাটতি পূরণে অনেকে কাঁচামরিচ খেতে চান। কিন্তু ঝালের জন্য খেতে পারেন না, তাদের কাছে এই মরিচের চাহিদা বাড়ছে। তবে বাজারে এই মরিচের বীজ পাওয়া যায় না। কেউ কেউ ব্যক্তি উদ্যোগে বিদেশ থেকে বীজ সংগ্রহ করে ছাদে চাষ করেছেন। কুমিল্লা গার্ডেনার্স সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও জেলার আদর্শ সদর উপজেলার গুনানন্দি গ্রামের ডা. আবু নাঈম বলেন, ‘কয়েকমাস আগে তিনি তার ঢাকার এক বন্ধুর কাছ থেকে এই মরিচের বীজ সংগ্রহ করেন। মরিচ ধরার পর ফেসবুকে শেয়ার দিলে ব্যতিক্রমী এই মরিচ ও ফলন দেখে তার সংগঠনের সদস্যরা আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেকে তার কাছ থেকে বীজ নিয়ে এই মরিচের চাষ শুরু করেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘মরিচটা চাপাই কোপাই নামে পরিচিত। লম্বায় আট থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। বেলে-দোআঁশ মাটিতে জন্মে, তবে জলাবদ্ধতা সইতে পারে না। ঝাল তুলনামূলক নেই বললেই চলে। যারা ঝাল কম খান, কিংবা চাইনিজ রেসিপি, থাই রেসিপিতে ব্যবহার করা হয়। সালাদেও বেশ উপাদেয়।’ জেলার চৌদ্দগ্রামের বাগানি মো. আলাউদ্দিন আজাদ বলেন, ‘এই মরিচ দেখতে একেবারে অন্যরকম। প্রান্তিক পর্যায়ে চাষ হলে ভোক্তাদের সঙ্গে চাষিরাও বেশ লাভবান হবেন। আশা করি এই বিষয়ে কৃষি বিভাগ নজর দেবে।’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-কুমিল্লার উপপরিচালক সুরজিত্ চন্দ্র দত্ত বলেন, ‘বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি ও কম-বেশি ঝালের অনেক মরিচের জাত রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার মরিচের একটি জাত চাবাই কোপাই। আমাদের এখানে এই মরিচের ফলন কেমন হয় তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। সফলতা পাওয়া গেলে অবশ্যই কৃষকদের এই মরিচ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হবে এবং কৃষকরাও লাভবান হবেন।