পঞ্চগড়ে করতোয়ার ভাঙনে বিলীন রাস্তা

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২০, ২১:৪৩

পঞ্চগড়ে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে করতোয়া নদীর ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। করতোয়ার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে জেলার বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের ডাঙ্গা সড়ক। গতবছর জিওব্যাগ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের এই সড়কটি ভাঙন থেকে রক্ষার চেষ্টা করা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি। ভেঙে গেছে হাজার হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বিদ্যালয়, মসজিদ, গোরস্থান, ফসলি জমিসহ সহস্রাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের সোনাচান্দি, সরকারপাড়া, বন্দরমনি, নিচার ঘাট, আরাজি শিকারপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের চলাচলের একমাত্র প্রাচীন রাস্তা ফুলতলা-শালশিরী-মানিকপীড় গড়ের ডাঙ্গা সড়ক। পঞ্চগড় থেকে ফুলতলা হয়ে সোনাচান্দি নিচারঘাট পর্যন্ত এই রাস্তার অধিকাংশই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এদিকে ভাঙনের মুখে পড়েছে আরাজি শিকারপুর সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও। করতোয়ার ভাঙন ঐ বিদ্যালয়ের মাঠ পর্যন্ত চলে এসেছে। এছাড়া পূর্বদিকে বন্দরমনি পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে চলছে করতোয়ার ভাঙন। অনেক ফসলি জমি, কবরস্থান, তেজপাতা ও আমের বাগানের অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হচ্ছে। ভাঙন ক্রমশ গ্রামের দিকে এগিয়ে আসছে। দুটি বিদ্যালয়, দুটি মসজিদ, কবরস্থান, ফসলি জমি, বাগানসহ সহস্রাধিক ঘরবাড়ি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় যাতায়াতে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয়রা।

সরকারপাড়া এলাকার আব্দুল্লাহ আল মারুফ, আসাদুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কৃষিপণ্য বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যেতেও তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। করতোয়ার ভাঙনের শঙ্কা নিয়ে কাটছে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙন তীব্র হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন নজরদারি নেই সেখানে। পঞ্চগড়ের নদনদীর ভাঙনের বিষয়টি অন্য এলাকার তুলনায় কম গুরুত্ব পায় বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। গত অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ঐ স্থানের ভাঙন ঠেকাতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু জিওব্যাগ দিয়ে কোনোমতে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করে ঠিকাদার। ভাঙন ঠেকাতে যা কোনো কাজেই আসেনি।

সরকারপাড়া এলাকার বৃদ্ধ আসর আলী জানান, রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় সাইকেল নিয়ে যেতেও ভয় লাগে। প্রতি বছরই নদী পাড় ভেঙে ভেঙে গ্রামের দিকে আসছে। জনপ্রতিনিধিরা সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও আজও তার বাস্তবায়ন হয়নি। এখানে শক্ত বাঁধ দেওয়া না হলে আমাদের ঘরবাড়ি, মসজিদ, বিদ্যালয়—সব নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। নিচারঘাট এলাকার রশিদুল ইসলাম ভাঙন ঠেকাতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, করতোয়া নদীর ভাঙনের স্থানগুলো চিহ্নিত করে বাঁধের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রকল্প পাশ হলেই সেই অনুযায়ী ঐ স্থানে বাঁধের কাজ হবে। তারপরও আমরা এলাকাটি পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।